বিনা বিচারে আটক নিরপরাধ বন্দিদের পুনর্বাসনে চাই আইন

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৭, ০১:৩১

বিচারের দীর্ঘসূত্রতায় কারাগারে আটক নিরপরাধ বন্দির মুক্তির পর পুনর্বাসন চায় সুপ্রিম কোর্টের লিগ্যাল এইড কমিটি। কিন্তু দেশে এ সংক্রান্ত কোনো আইন নেই। কমিটি এ বিষয়ে সরকারের প্রতি আইন প্রণয়নের তাগিদ দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে কমিটির চেয়ারম্যান হাইকোর্টের বিচারক বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম এই আহ্বান জানান। এদিকে গত দেড় বছরে কমিটি ৫৫৫টি মামলার আইনি সহায়তার আবেদনপত্র গ্রহণ করেছে। এসব মামলার মধ্যে আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে নিষ্পত্তি হয়েছে ২৯৮টি মামলা। আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ৪৯৭টি মামলায়। আইনি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ২৩২ জন অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীকে।

কমিটির চেয়ারম্যান জানান, ১০ বছরের অধিক সময় ধরে কারাগারে বন্দি ছিলেন ৫৮ জন। এদের মধ্যে হাইকোর্টের নির্দেশে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ১৮ জন। এ ছাড়া পাঁচ বছরের অধিক সময় ধরে কারাগারে আটক রয়েছেন এমন ৪০৪ জন বন্দিকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহায়তায় ১০ হাজার পোস্টার ও ইউএস এইডের জাস্টিস ফর অল প্রোগ্রামের সহায়তায় ৩ হাজার প্যাম্পপ্লেট সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটি কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ৭ হাজার ৭৩৫টি পোস্টার দেশের প্রত্যেক ইউনিয়ন, উপজেলা ও ৬৮টি জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। যেখানে এসব পোস্টারে সরকারি আইনি সহায়তা সেবা প্রদানের বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য রয়েছে।

লিগ্যাল এইড কমিটি জানায়, সিপন নামের এক ব্যক্তি ১৮ বছর ধরে কারাগারে আটক ছিল। সিপনের একটি হাত ছিল না। সিপনের প্রতিপক্ষরা তার হাত কেটে নেয়। আর্থিক অনটনের জন্য পরিবারের সদস্যরা সিপনের খোঁজ নিত না। সে কারণে মামলা পরিচালনার জন্যও তার পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। হাইকোর্টের নির্দেশে সিপন যখন মুক্তি পায় তখন ছিল সে নিঃস্ব। তার মানবিক ও পুনর্বাসনের বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। আদালত সামজিকভাবে তাকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে ঢাকার জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন। কিন্তু এ বিষয়ে যথাযথ কোনো আইন নেই। সিপনের এই মানবিক বিষয়টি গতকাল লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান ইনায়েতুর রহিম সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এমন অনেক বন্দি রয়েছেন যারা কারাগারে থাকতে থাকতে তাদের কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। মামলা পরিচালনার সামর্থ্যও তাদের নেই। কিন্তু বিচারের দীর্ঘসূত্রতার জন্য তো তারা দায়ী নয়। এদের এই মানবিক বিষয়টি নিয়ে আমাদের সকলকে ভাবতে হবে। তাদের যদি যথাযথ পুনর্বাসন না করা হয় তারা অপরাধ জগতে প্রবেশ করতে পারে।

কমিটির সূত্রে জানা যায়, মানসিক ভারসাম্যহীন দুজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে আটক রয়েছে। তাদের আইনি সহায়তা দেয় সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটি। কিন্তু পরিবারও তাদেরকে গ্রহণ করতে রাজি হয়নি। এ কারণেই এ ধরনের বন্দিদের জন্য বিশেষায়িত পুনর্বাসন কেন্দ্র দরকার। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি এনজিওগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম।

মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্ট বার সম্পাদক ব্যারিস্টার এম মাহবুবউদ্দিন খোকন, হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মো. সাব্বির ফয়েজ, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার উপ-পরিচালক আবেদা সুলতানা ও লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট টাইটাস হিল্লোল রেমা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এম মাহবুবউদ্দিন খোকন বলেন, দরিদ্র বন্দিদের জন্য যোগ্য আইনজীবী নিয়োগ দিতে হবে।

সৈয়দ আমিনুল ইসলাম বলেন, লিগ্যাল এইড কমিটির প্যানেল আইনজীবীর কাজের দক্ষতা মনিটর করার জন্য নীতিমালা রয়েছে। এই মনিটরিং ব্যবস্থা যত শক্তিশালী হবে সুফল তত বেশি পাওয়া যাবে।

ইত্তেফাক/নূহু