২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া এবং নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি ভোটারদের বিশ্বাসের ভিত্তি দুর্বল করার একটি পরিকল্পনা করেছিল ভ্লাদিমির পুতিনের নিয়ন্ত্রিত রুশ সরকারের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। তিনজন বর্তমান এবং চারজন সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ কথা বলেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক বিশেষ প্রতিবেদনে ওই কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, মার্কিন নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের পরিকল্পনা করা রাশিয়ার ওই গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘রাশিয়ান ইন্সটিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ’। এই প্রতিষ্ঠানের ওপর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। পুতিনের দফতর থেকে নিয়োগ পাওয়া সাবেক পররাষ্ট্র গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দ্বারা এটি পরিচালিত হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, পুতিন ওই প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে মার্কিন নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের পরিকল্পনা করেছিলেন।
ওই কর্মকর্তারা দাবি করেন, গত জুনে প্রথমবারের মতো একটি নথি প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি। সেই নথিতে সুনির্দিষ্ট কোনও দিক নির্দেশনা ছিল না। তবে নথিতে একটি প্রচারণা কর্মসূচি চালানোর কথা বলা হয়েছিল। মার্কিনিরা যেন রাশিয়ার প্রতি সহযোগিতামূলক দৃষ্টিভঙ্গির একজন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেন, সেই উদ্দেশ্যেই ওই প্রচারণা চালাতে বলেছিল রাশিয়ার ইন্সটিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ। কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, জুনে প্রথম নথিটি প্রকাশিত হওয়ার পর অক্টোবরে আরেকটি নথি প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়, ডেমোক্রেট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন নির্বাচন জিততে যাচ্ছেন। এজন্য রাশিয়ার উচিত ট্রাম্পের সমর্থনে কাজ করা। এরপর তারা হিলারির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা চালায়। ওই নথি দুইটি মার্কিন গোয়েন্দাদের হাতে রয়েছে বলে দাবি করেছেন কর্মকর্তারা। তবে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে নথিগুলো সংগ্রহ করেছে, সেই কথা জানাননি তারা।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসন দাবি করেছিল, রাশিয়া ডেমোক্রেটিক পার্টির বিরুদ্ধে সাইবার হামলা চালিয়েছে এবং নির্বাচনে ট্রাম্পের পক্ষে ভূমিকা রেখেছে। তবে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন শুরু থেকেই মার্কিন নির্বাচনে তার নিজের কিংবা রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এ বিষয়ে রাশিয়ান ইন্সটিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ নামের ওই প্রতিষ্ঠানটির এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য বরাবরই রাশিয়ার প্রভাবের কথা অস্বীকার করে আসছেন। ট্রাম্পের দাবি, তার নির্বাচনী প্রচারণায় রাশিয়ার কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। মার্কিন কংগ্রেস ও এফবিআইয়ের তদন্তেও ট্রাম্পের সঙ্গে রুশ সংশ্লিষ্টতার কোনও প্রত্যক্ষ প্রমাণ মেলেনি। রয়টার্স।
ইত্তেফাক/সাব্বির
