একটি দুর্ঘটনায় ইব্রাহিমের জীবনে নেমে এলো অন্ধকার

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৯, ২০:১৪

এক মেয়ে, এক ছেলে, মা ও স্ত্রী নিয়ে গোছানো ছোট্ট একটি সুখের সংসার ইব্রাহিমের। একটি দোকানে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। প্রতি মাসে তার হাতে আসত ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা। তা দিয়ে পাঁচজনের এই সংসার কোনরকমভাবে চলত। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা সদরের কাজী বাড়ির একটি ছোট ঘরে এই পরিবারের বসবাস। 

ইব্রাহিমের বড় মেয়ে জান্নাত (৯) চতুর্থ শ্রেণিতে পরে। আর ছোট ছেলে আরাফাত (৫) স্কুলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। ইব্রাহিমের স্বপ্ন ছিলো নিজে খেয়ে না খেয়ে সন্তানদের মানুষ করবেন। কিন্তু সব স্বপ্ন ভেঙ্গে দিয়ে ইব্রাহিমের জীবনে নেমে এলো গভীর অন্ধকার।

গত বছরের মার্চ মাসে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ইব্রাহিম ভর্তি হন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। চিকিৎসক জানালেন, রোগীকে বাঁচাতে হলে, ডান পা কেটে ফেলে দিতে হবে। তাকে সুস্থ করতে যে চিকিৎসা প্রয়োজন তা অনেক ব্যয়বহুল, খরচ হবে ৫ থেকে ৮ লাখ টাকা। কিন্তু এই পরিমাণ টাকা সংগ্রহ অসহায় পরিবারটির সাধ্য নেই। তার মধ্যে পরিবারে রোজগার করার মতো আর কেউ নেই।

একমাত্র উপার্জনক্ষম ইব্রাহিম অসুস্থ হওয়ায়  স্ত্রী-সন্তানদের খাবার যোগান দেওয়াই দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। উপায়ান্তর না দেখে অবুঝ শিশুদের নিয়ে ছুটে চলেন এ বাড়ি ও বাড়ি। একটু সহযোগিতার জন্য। শুধু তাই নয়, নিজের ভিটে মাটি যা একটু ছিলো সেটি বিক্রয় করে পেয়েছেন ৮০ হাজার টাকা। আর বাকি টাকা দোকানের মালিক ও দোকান মালিকের আত্মীয় স্বজনরা জোগাড় করে তার চিকিৎসা শেষ করে। চিকিৎসা শেষে ইব্রাহিম সুস্থ হয়েছেন ঠিকই, কিন্তু বর্তমানে তার একটি পা না থাকার কারণে ভারি কোন কাজ করতে পারছে না। টাকার অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে ছেলে, মেয়ের লেখাপড়া। প্রথম দিকে আত্মীয় স্বজনরা সহযোগিতা করলেও বর্তমানে সেটিও আর মিলছে না। তাই অন্যের বাসায় কাজ করে দু’মুঠো খাবার জোগাতে হিমসিম  খাচ্ছে তার মা ও স্ত্রী।

আরো পড়ুন: ফোর্বস সেরা তরুণ উদ্যোক্তা তালিকায় দুই বাংলাদেশি

ইব্রাহিম বলেন, মা আর স্ত্রী অন্যের বাড়ি কাজ করে যে টাকা পায় তা দিয়ে সংসার চালাতেই হিমসিম খেতে হয়। অন্যের কাছে হাত পেতে সহযোগিতা নিয়ে তো আর সারা জীবন পাড় করা যায় না। সমাজের বৃত্তবানরা যদি একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে আমাকে একটি দোকান ঘরের ব্যবস্থা করে দিতো তাহলে হয়তো আবার আমার সন্তানরা স্কুলে যেতে পারতো। মা ও স্ত্রীকে হয়তো আর অন্যের বাড়ি কাজ করতে হতো না। গত কয়েক মাসে ধরে অনেক চেষ্টা করেছি মুরাদনগর বাজারে রাস্তার পাশে একটি ছোট্ট পান দোকান নিয়ে বসতে, কিন্তু যেখানেই পান দোকান নিয়ে বসতে যাই সেখানেই বাধা আসে। এ অবস্থায় ইব্রাহিমের পরিবারটিকে সহযোগিতার জন্য সমাজের হৃদয়বান ও বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে তার পরিবার। ইব্রাহিমের বিকাশ নম্বর: ০১৬৮৪৮০১৫৯৩-এ সাহায্য পাঠানোর অনুরোধ করেছেন তারা।

ইত্তেফাক/জেডএইচ