মৃত্যুর ২৬ দিন পর পুনঃময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী ইসলামি ব্যাংক মেডিকেল কলেজের (আইবিএমসি) শিক্ষার্থী মালদ্বীপের নাগরিক মডেল রাউধা আথিফের লাশ কবর থেকে তোলা হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টার দিকে রাজশাহীর হেতেমখা কবর স্থান থেকে লাশ তোলা হয় বলে জানিয়েছেন হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির পরিদর্শক আসমাউল হক।
তিনি বলেন, রাজশাহী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রক্তিম চৌধুরীর উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। এ সময় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শফি ইকবাল ও রাউধার বাবা ডা. মোহাম্মদ আথিফ উপস্থিত ছিলেন।
পরে লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে নেয়া হয়। সেখানে দ্বিতীয় মেডিকেল বোর্ড রাউধার লাশের দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত করবেন।
আসমাউল হক বলেন, রাউধার লাশ পুনঃময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আমিরুল চৌধুরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের বোর্ড গঠন করা হয়। এই বোর্ড ময়নাতদন্ত করবেন।
বোর্ডের অপর দুই সদস্য হলেন, সিরাজগঞ্জের নর্থ বেঙ্গল মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহবুব হাফিজ ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজের রেডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হাফিজুর রহমান।
IMG0
এর আগে গত ৩১ মার্চ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাউধার প্রথম ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। বারিন্দ মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. মনসুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড ওই ময়নাতদন্ত করে। এ বোর্ডের অপর দুই সদস্য হলেন, যথাক্রমে ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এমদাদুর রহরমান ও রামেক ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এনামুল হক।
এর আগে এনামুল হক ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজে এবং এমদাদুর রহমান রামেক ফরেনসিক বিভাগে চাকরি করেছেন। এই মেডিকেল বোর্ডের প্রদত্ত ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে রাউধা ‘গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া রাউধার কলেজ কর্তৃপক্ষের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে তার অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাকে ‘আত্মহত্যা’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের গঠিত কমিটিতেও অধ্যাপক এমদাদুর রহমান সংশ্লিষ্ট ছিলেন।
কিন্তু রাউধার বাবা ডা. মোহাম্মদ আথিফ দাবি করে আসছেন, তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। এ দাবিতে তিনি গত ১০ এপ্রিল রাজশাহীর আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আর্জিতে মডেল রাউধার বান্ধবী ও ভারতের কাশ্মিরের বাসিন্দা সিরাত পারভীন মাহমুদকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে গত ১৪ এপ্রিল মামলাটি শাহ্ মখদুম থানা থেকে সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে লাশের দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের অনুমতি পেতে আদালতে আবেদন জানিয়েছিল সিআইডি। গত ১৮ এপ্রিল আদালত লাশ উত্তোলন করে পুনঃময়নাতদন্তের অনুমতি দেয়।
ইত্তেফাক/কেকে
