অবৈধ অর্থ উপার্জনের দায়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) নগর গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলী আকবরকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
সোমবার খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক অরুপ কুমার গোস্বামী তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক নাজমুল হোসেন জানান, এসআই আলী আকবর মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিন নিতে যান। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। দুদকের পক্ষে আসামির জামিনের বিরোধিতা করেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মুজিবুল হক।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, ঘুষ গ্রহণ ও ব্যাপক চাঁদাবাজি সংক্রান্ত অভিযোগ পাওয়ার পর দুদক থেকে ২০১১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর আলী আকবরের কাছে সম্পদের বিবরণী চাওয়া হয়। ২০১১ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি দুদকে সম্পদ বিবরণী জমা দেন। তবে দুদক থেকে দাখিলকৃত সম্পদ যাচাইকালে ১ কোটি ৮৭ লাখ ৩৪ হাজার ৮৭ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এসময় আলী আকবর ২০ লাখ টাকার সম্পদ গোপন করে এবং ১ কোটি ৩৫ লাখ ৯৭ হাজার ২৫১ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে দখলে রাখেন। যা ২০০৪ সালের দুদক আইনের ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
আলী আকবর ১৯৯৬ সালের ৯ অক্টোবর পুলিশ কনস্টেবল পদে যোগদান করেন। এরপর তিনি এএসআই হিসাবে নগরীর দৌলতপুর থানায় যোগ দেন। খুলনা মহানগরীর অভিজাত এলাকা পশ্চিম টুটপাড়া মেইন রোডের ‘আঞ্জুমান মঞ্জিল’ নামে বিলাসবহুল আলিশান চারতলা বাড়ি রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, খুলনা সদর ও দৌলতপুর থানায় কর্মরত থাকাবস্থায় তিনি পেন্ডিং মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ বাণিজ্য, কালোবাজারি, চোরাকারবারি ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন।
