ফের রাউধার লাশ উত্তোলন

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৭, ১৮:৫৯
আমার মেয়ে (রাউধা) মরেনি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমি শুধু রাউধার বাবাই নয়, আমি একজন ডাক্তারও। আমি রাউধর গলায় ফাঁসের চিহ্ন দেখতে পাইনি। দেখতে পেয়েছি তার গলায় হাতের চিহ্ন। তার গলায় কোন ঝোঁলার চিহ্ন ছিল না। যারা মেডিকেলে পড়াশোনা করে তারা জানে, কেউ আত্মহত্যা করলে তাকে ছোয়া (নামানো) যাবে না। 
 
সোমবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে নগরীর হেতেম খাঁ কবরস্থান থেকে পুনঃময়নাতদন্তের জন্য রাউধার লাশ উত্তোলনের পরে সাংবাদিকদের কাছে এ  কথা বলেন বাবা মোহাম্মদ আতিফ। 
 
তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পরে ওই মেডিকেল কলেজ ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে নানা নাটকের জন্ম দিয়েছে। তবে বর্তমানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ তদন্ত করছে, আমার আশা এবার রাউধার মৃত্যুর সঠিক কারণ উঠে আসবে।’
 
অন্যদিকে, হেতেম খাঁ কবরস্থান থেকে রাউধার প্রায় অর্ধগলিত লাশ উত্তোলনের পর রামেক হাসপাতালের মর্গে পুনঃময়নাতদন্ত করা হয়েছে।
 
রাউধার লাশের ময়নাতদন্তের সময় উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগের সহাযোগী অধ্যাপক হাফিজুর রহমান, সিরাজগঞ্জ নর্থ বেঙ্গল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনিসিক মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক মাহাবুব হাবিব ও সিরাগঞ্জের সৈয়দ মুনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহাযোগী অধ্যাপক আমিরুল হোসেন চৌধুরী। 
 
এর আগে সকালে নির্বাহী মেজিস্ট্রেট ড. রক্তিম চৌধুরীর উপস্থিতিতে নগরীর হেতেম খাঁ কবরস্থান থেকে রাউধার লাশ উত্তোলন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসমাউল হোসেন প্রমুখ। 
 
প্রসঙ্গত, গত ২৯ মার্চ দুপুরে রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ছাত্রী হোস্টেলের ২০৯ নম্বর কক্ষ থেকে রাউধার লাশ উদ্ধার করা হয়। তখন পুলিশ জানিয়েছিল, ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে রাউধা আত্মহত্যা করেছে। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই তার সহপাঠীরা রাউধার ঝুলন্ত লাশ নামিয়ে ফেলে। গত ৩০ মার্চ রাউধার লাশ দেখতে রাজশাহীতে আসেন মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত আয়েশাথ শান শাকির এবং তার মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা। ৩১ মার্চ ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের দুই চিকিৎসকসহ তিনজনের মেডিকেল বোর্ড লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে। 
 
পরে রাউধা আত্মহত্যা করেছেন বলে উল্লেখ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। তবে মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে গত ১০ এপ্রিল রাউধার বাবা রাজশাহী আদালতে একটি মামলা করেন। এর আগে ঘটনার দিন একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। দুটি মামলায় এখন তদন্ত করছে রাজশাহী সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক আসমাউল হোসেন। তিনি লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে দ্বিতীয় বার ময়নাতদন্তের জন্য আবেদন করেন। আদালত তা গ্রহণ করে রাউধার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে পুনঃময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন।
 
 ইত্তেফাকত/ইউবি