গজারিয়ার এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে হত্যা : আটক ২

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৭, ২২:১৩
গজারিয়ায়র এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশ দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে। এদিকে আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক ও মুন্সীগঞ্জ-৩ (গজারিয়া-মুন্সীগঞ্জ সদর) আসনের অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং সোনিয়ার পরিবারের সাথে কথা বলেছেন। তিনি শোক সভায় অংশ নিয়েছেন। 
 
সংসদ সদস্য বলেছেন, সোনিয়া হত্যাকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত তাদেরকে ছাড় দেয়া হবেনা। এ হত্যাকাণ্ডের বিচার করা হবে। ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য চেষ্টা চলছে। তাঁদের নিরাপত্তা দেয়া হবে। তিনি সোমবার গজারিয়ার বালুয়াকান্দি ডা. আব্দুল গাফ্ফার স্কুল এন্ড কলেজে এক শোক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। 
 
প্রচন্ড বৃষ্টি ও ঝড়ো আবহাওয়ার মধ্যে বিদ্যালয়ের বারান্দায় এ শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই বিদ্যালয়ের এইচ.এস.সি পরীক্ষার্থী সোনিয়া হত্যার প্রতিবাদে এ শোক সভার আয়োজন করে বালুয়াকান্দি ডা: আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক ও অভিভাবক বৃন্দ। এ শোক সভায় অন্যান্নের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গজারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান রেফায়েত উল্লাহ খান তোতা, বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক পরিচালক হাফেজ আহমেদসহ গজারিয়া উপজেলার সকল ইউপি চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয়ের অভিভবকবৃন্দ।
 
পরে এমপি সোনিয়ার বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারকে শান্তনা দেন। সোনিয়ার মাকে এ হত্যাকারণ্ডের সুষ্ঠু বিচারেরও আশ্বাস দেন তিনি। 
 
মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম পিপিএম দুই ব্যক্তিকে আটকের কথা নিশ্চিত করে বলেছেন, সোনিয়া হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে রাজন ও সিরাজ নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। সোমবার তাদেরকে ঢাকা থেকে আটক করে গজারিয়া থানা পুলিশ। তাদেরকে পুলিশ হেফাজতে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
 
উল্লেখ্য, নিহত সোনিয়া আক্তার গজারিয়া বালুয়াকান্দি ডা. আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের এবাবের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। গত ১৭ এপ্রিল সোমবার সকালে বাড়ির পাশে কলপাড়ে অজ্ঞাত নামা ব্যক্তি দাহ্য পদার্থ দিয়ে সোনিয়ার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে তার শরীরের প্রায় ৮০ ভাগ পুড়ে যায়। চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেলে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করানো হলে চিকিৎসারত অবস্থায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টায় সে মারা যায়। এর পূর্বে গত ১৯ এপ্রিল সোনিয়ার মা হাজেরা বেগম মেয়ের গায়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার জন্য অজ্ঞাতনামা একজনকে আসামি করে গজারিয়া থানায় একটি মামলা করেন।