‘দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি হলে কারাগারে ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির দরকার নেই’

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৭, ১৮:১১
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেছেন, কারাগারের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির পক্ষপাতি আমি নই। মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা গেলে কারাগারের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করার কোন দরকার নেই। তিনি বলেন, বিনা বিচারে যারা দীর্ঘদিন কারাগারে বন্দি রয়েছেন তাদের মানবাধিকার লংঘিত হচ্ছে। জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে ‘সুপ্রিম কোর্টে আইন সহায়তা কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় কাজী রিয়াজুল হক এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম। সুপ্রিম কোর্টের কনফারেন্স লাউঞ্জে বুধবার সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটি এই সভার আয়োজন করে। 
 
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, আইন সহায়তা সেবা প্রাপ্তি নাগরিকের অধিকার। এটা সরকারের বদান্যতা নয়। একটি গণতান্ত্রিক সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ যে তার নাগরিকদের সমস্ত অধিকারগুলো দেবে, আর এটাই মানবাধিকার। তিনি বলেন, কক্স্রবাজার জেলখানা পরিদর্শনে গিয়ে জানতে পেলঅম সেখানে বন্দি ধারণ ক্ষমতা ৫৩০ জন। কিন্তু রাখা হয়েছে ১৮শত জনকে। এদের মধ্যে ৩০০ বন্দি রয়েছেন যারা বিভিন্ন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত। সেখানকার জেলা প্রশাসক ও জেল কর্তৃপক্ষ বলল আমাদের কারাগারের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করা দরকার। কিন্তু আমি এ ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার পক্ষপাতি নই। কারন যিনি বিনা বিচরে কারাগারে আটক রয়েছেন ওই ব্যক্তি তো রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসাবে সেখানে থাকতে চান না। তার তো স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার অধিকার রয়েছে। কিন্তু তাকে কারাগারে রেখে তার অধিকারগুলো খর্ব করা হচ্ছে। রাষ্ট্রের পয়সাও খরচ হচ্ছে।
 
তিনি বলেন, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রতি মাসে বাধ্যতামূলকভাবে একবার কারাগার পরিদর্শন করতে হয়। জেলা জজ মাসে একবার না হলেও দুই মাস অন্তর তাকেও কারাগার পরিদর্শনে যেতে হয়। পরিদর্শনের ওই রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রী এমনকি মন্ত্রিসভায় যায়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ করে ১০/১৫ বছর ধরে যারা বিনা বিচারে কারাগারে আটক রয়েছেন তাদের বিষয়টি কি জেলা জজ ও জেলা ম্যাজিস্টেট্রের নজরে আসেনি? বেসরকারি জেল পরিদর্শন কমিটিও রয়েছে। তাদের ভূমিকা কি? দেখা যাচ্ছে এক্ষেত্রে একটা সমন্বয়হীনতা রয়েছে। আমি মনে করি সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটি সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ বিষয়গুলো তাদের দৃষ্টিতে নিয়ে আসা। 
 
তিনি বলেন, ইতমধ্যে হাইকোর্ট থেকে বিনা বিচারের আটকদের ক্ষেত্রে বেশ কিছু আদেশ দেয়া হয়েছে। এসব আদেশে মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে যে দীর্ঘদিন কাউকে বিনা বিচারে কারাগারে থাকতে হবে না। কাজী রিয়াজুল হক বলেন, একটি ডাকাতির মামলায় বাবুল নামে এক ব্যক্তি বিনা বিচারে ২৫ বছর কারাগারে আটক ছিলো। কিন্তু ওই মামলায় সর্বোচ্চ সাজা ১৪ বছর। কিন্তু তাকে ২৫ বছর জেলে থাকতে হয়েছে। পরে তিনি মামলা থেকে খালাস পান। কিন্তু এই ২৫ বছর তাকে কে ফিরিয়ে দেবে? তিনি বলেন, সামনে জাতীয় বাজেট আসছে। এনজিওগুলো থেকে বলা হচ্ছে তারা প্রজেক্ট নির্ভর কাজ করে থাকে। যখন প্রজেক্ট শেষ হয়ে যায় তখন কাজ শেষ না হলেও আর অর্থ পাওয়া যায় না। তখন সরকারের  উচিত এই প্রজেক্টগুলোকে টেনে নেয়া।