নব্য জেএমবির ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বিশেষজ্ঞ মুশফিকুর রহমান ওরফে মুশফিক মার্টিন ওরফে জেনীকে র্যাব গ্রেফতার করেছে। গতকাল বুধবার সকালে উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। জেনী বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র। তার কাছ থেকে বেশ কিছু আইইডি ও রিমোট কন্ট্রোল, বেশ কিছু সার্কিট ডায়াগ্রাম উদ্ধার করা হয়েছে। র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, তার তৈরি আইইডি ১০০ মিটার দূর থেকে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো সম্ভব।
গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর বলেন, ২০ মার্চ বাড্ডা থেকে গ্রেফতার জেএমবি সদস্যদের তথ্যের সূত্র ধরে বিভিন্ন স্থান থেকে ১৫ জঙ্গিকে গান পাউডার ও দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়। তাদের জবানবন্দি থেকে জানা যায়, জেনী তাদের তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ। তিনি জেএমবি সদস্যদের আইইডি তৈরির বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন ও প্রযুক্তি সরবরাহ করেন।
র্যাব জানায়, গতকাল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকীর নেতৃত্বে একটি দল উত্তরা-১২ নম্বর সেক্টরের ১/এ নম্বর সড়কের আট নম্বর বাসা থেকে জেনীকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সারোয়ার-তামিম গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তার নেতৃত্ব ও তত্ত্বাবধানে নব্য জেএমবি নাশকতার পরিকল্পনা প্রণয়ণ, ঘটনাস্থল রেকি, আইইডি তৈরি ও স্থাপন করতেন বলে জানা গেছে। জেনী বুয়েটের ২০০৫ ব্যাচের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র। অনিয়মিত পড়ালেখার কারণে তিনি এখনও পাস করতে পারেননি। তবে নিয়মিত সেমিস্টার ফি জমা দিয়ে তিনি তার ছাত্রত্ব বজায় রেখেছেন। এরআগে বাড্ডায় গ্রেফতার নব্য জেএমবি সদস্য ওয়ালী জামান ও আনোয়ার বুয়েটে জেনীর সহপাঠী ছিলেন। আনোয়ার এক সময় জেনীদের উত্তরার বাসায় ভাড়া থাকতেন। জেনীকে বাড্ডা থানায় ২১ মার্চ দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানায়, নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতা তামিম চৌধুরী বিভিন্ন অ্যাপস ব্যবহার করে সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। এ পর্যন্ত গ্রেফতার জঙ্গিদের অনেকের সঙ্গেই তার অ্যাপে যোগাযোগ ছিল। এর আগে গ্রেফতার একই গ্রুপের জঙ্গি সালমান গান পাউডার তৈরিতে পারদর্শী ছিলেন।
ইত্তেফাক/নূহু
