মৌলভীবাজার জেলার জুড়ি উপজেলার ধামাই, সোনারুপা ও আতিয়াবাগসহ ৩টি চা বাগানে দেখা দিয়েছে চরম অর্থনৈতিক সংকট। এই সংকটের কারণে গত বুধবার শ্রমিকদের সাপ্তাহিক হাজিরা দিতে না পারায় শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখেছে। চা বাগান ও ফ্যাক্টরিতে শ্রমিকদের কর্মতত্পরতা না থাকায় বাগানগুলোতে বিরাজ করছে শুনশান নীরবতা ও অনিশ্চয়তা।
জানা গেছে, এই তিনটি বাগানের প্রায় ৬ হাজার একর ভূমিতে কাজ করে ২২০০ স্থায়ী ও ৫০০ অস্থায়ী চা শ্রমিক। এদের ওপর নির্ভরশীল প্রায় ৮ হাজারোধিক লোক। বাগান পঞ্চায়েত প্রধান যাদব রুদ্রুপাল ও অন্যান্য সূত্র থেকে জানা গেছে, বিল পরিশোধ করতে না পারায় গত বছর ভরা মৌসুমে ধামাই চা বাগানে দুই মাস গ্যাস ও বিদ্যুত্ সংযোগ বিছিন্ন ছিলো। যার ফলে আহোরিত এক লাখ কেজির বেশি কাঁচা চা পাতা ধূপঘরে (যেখানে চাপাতা পানি শূন্য করা হয়) নষ্ট হয়। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে বাগানের ক্ষতি ছিল পাঁচ কোটি টাকার বেশি। জালালাবাদ গ্যাসের ম্যানেজার আওলাদ হোসেন জানান, সোনারূপা চা বাগান সাড়ে তিন লাখ টাকার গ্যাস বিল পরিশোধ করেছে। ধামাই চা বাগানের কাছে পাওনা সাড়ে সাত লাখ টাকা। আতিয়াবাগ চা বাগানের কাছে গত এক বছরে আড়াই লাখ টাকার গ্যাস বিল অনাদায়ী রয়েছে। এই বাগান গুলোতে ২০ লক্ষাধিক টাকার বিদ্যুত্ বিল অনাদায়ী।
বাগান শ্রমিকরা জানিয়েছে, ধামাই চা বাগানের শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি ও রেশন ২৬ সপ্তাহ, সোনারূপা চা বাগানের ১০ সপ্তাহ ও আতিয়াবাগ বাগানের ৮ সপ্তাহ বকেয়া পড়েছে। স্টাফদের বেতন ও রেশন বকেয়া রয়েছে ১০ মাস। বাগানের ২৫ জন সর্দার চার মাস যাবত্ বেতন পাচ্ছেন না।
জানা গেছে, বাগান মালিকদের কাছে স্টাফদের বকেয়া বেতন, গ্র্যাচুয়িটি, বোনাস, প্রফিডেন্ট ফান্ডসহ এক কোটি ২০ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারায় গত আট মাসে সাত জন ম্যানেজার ও সকল সহকারী ম্যানেজার কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন। বাগান কর্তৃপক্ষ সৈয়দা সাফিয়া আসব আলীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে (নং ০১৭১১-৫৬১০৭৭) একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায় নাই। বাগানের হেড অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, সপ্তাহ খানেক আগে ধামাই ও আতিয়াবাগ চা বাগানে দুইজন ব্যবস্থাপক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সোনারূপা চা বাগানে ব্যবস্থাপক নিয়োগ দেওয়া হবে। ধামাই চা বাগানের নবাগত ব্যবস্থাপক তপন চক্রবর্তী জানান, তিনি এখনও দায়িত্বভার গ্রহণ করেননি। গত বৃহস্পতিবার শ্রমিকরা কাজে না গিয়ে বেলা ১টা পর্যন্ত অফিসের সামনে বসে ছিলেন। বাগানের সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনার জন্য শ্রম মন্ত্রণালয়ের ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কোনো কর্মকর্তা বাগান পরিদর্শনে আসেননি। শ্রমিকরা তাদের দুর্দশা লাগবের জন্য মানববন্ধন, অবরোধ কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে। উল্লেখ্য যে, শ্রমিকদের রোষানলে পড়ে ১৯৮৭ সালে বাগানের মূল মালিক বগুড়ার সৈয়দ আসব আলী অকাল মৃত্যু বরণ করেন।
এদিকে সর্বশেষ খবরে জানা গেছে গতকাল শনিবারেও শ্রমিকরা কাজে যোগ দেয়নি।
ইত্তেফাক/নূহু
