মেট্রোরেল প্রকল্পের তিন চুক্তি স্বাক্ষর

আপডেট : ০৪ মে ২০১৭, ০০:৩৯

ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট  (এমআরটি) লাইন-৬ নির্মাণের জন্য তিনটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশের একটি কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে ইতালিয়ান দুটি কোম্পানির এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়। গতকাল বুধবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলের বলরুমে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ বাংলাদেশ ও ইতালিয়ান দুইটি কোম্পানির  প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি লিমিটেড এবং সিনোহাইড্রো কর্পোরেশনের সিপি-২ চুক্তি হয়। এছাড়া আলাদাভাবে ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে সিপি-৩ ও ৪ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, মেট্রোরেলের কাজ যে গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে আশা করছি আগামী ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এর বাণিজ্যিক পরিচালনা শুরু হবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, গত বছরের জুলাইতে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারির জঙ্গি হামলার ঘটনার পর মেট্রোরেলের কাজ কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছিল, তাদের ৭ জন কনসালটেন্ট নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ায় গতি স্তিমিত হয়ে যায়, প্রায় ছয় মাসের মত পিছিয়ে গেছি, এখন আবার পুরোদমে কাজ শুরু হয়েছে। যথাসময়ে এর নির্মাণ কাজ শেষ হবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা জনগণের স্বার্থে এবং যানজট নিরসনে মেট্রোরেলের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছি। এটি নির্মাণে জনগণের কিছুটা দুর্ভোগ হচ্ছে, তবে উন্নয়নের স্বার্থে এ দুর্ভোগের মাত্রা কমাতে এবং সহনীয় মাত্রায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে ।

সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যে আশ্বাস দিয়েছেন, তা থেকে বুঝা যায়- শেখ হাসিনা সরকারের আমলে যথাসময়ে তিস্তা চুক্তি সম্পাদন করা হবে।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালের ২৪ জুন দেশের প্রথম মেট্রোরেল নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এরমধ্যে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)’র প্রকল্প সহায়তা ৭৫ শতাংশ এবং বাংলাদেশ সরকার ২৫ শতাংশ ব্যয় বহন করবে। মেট্রোরেলের  দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ২০ কিলোমিটার, উত্তরা এলাকার উত্তর থেকে মতিঝিল বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত এলিভেটর সিস্টেম থাকবে। এ মেট্রোরেলের যাত্রী পরিবহন ক্ষমতা হবে উভয় দিকে ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী চলাচল করতে পারবে। এরমধ্যে উত্তরা-উত্তর, উত্তরা-সেন্টার, উত্তরা-দক্ষিণ, পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কাওরানবাজার, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ সচিবালয় এবং মতিঝিলে ১৬টি স্টেশন থাকবে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এ সময় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনও  ছিলেন।

ইত্তেফাক/নূহু