ভারতে ৫০০ ও ১০০০ রুপির পুরোনো নোট বাতিল হয়ে গেছে সেটাও কমপক্ষে ছয় মাস হয়ে গেল। কিন্তু তার রেশ যে এখনো কাটেনি। নোটবাতিল যে ভারতের দরিদ্র মানুষকে কিভাবে বিপদে ফেলেছে সেটা নিশ্চয়ই খোদ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কল্পনাতেও নেই।
এবার যে মানুষটির কাছ থেকে নোট বাতিল সংক্রান্ত সমস্যার কথা উঠে এসেছে, তিনি একজন যৌনকর্মী। পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচার হওয়া ওই তরুণী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে এই মর্মে টুইট করেছেন যে, তিনি তার সঞ্চয়ের ১০,০০০ টাকা এখনও পর্যন্ত নতুন নোটে বদলে নিতে পারেননি।
মানব পাচারের শিকার হয়ে বাংলাদেশ থেকে আসা এই যৌন কর্মীর ভাগ্য বিড়ম্বনার ও দুর্দশার খবর বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে স্থান করে নিয়েছে।
ভারতীয় সংবদ মাধ্যম থেকে জানা যায়, ভারতের পুণের বুধওয়ারপেথের এক নিষিদ্ধ পল্লি থেকে ‘রেসকিউ ফাউন্ডেশন’ এর সহায়তায় ২০১৫-এর ডিসেম্বরে ওই বাংলাদেশি তরুণীকে উদ্ধার করা হয়।
গত ৩ মে সংস্থাটির টুইটার থেকে আপলোড করা একটি হাতে লেখা চিঠি থেকে যানা যায় যে, ওই নারী প্রধানমন্ত্রী মোদীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যাতে তার ওই নোটগুলি বদলে মোদী তাকে সাহায্য করেন।
Urgent appeal from a Bangladeshi girl. Sir @narendramodi ji , @SushmaSwaraj ji seeking your intervention ASAP. pic.twitter.com/MqT4NQs4o5
— Rescue Foundation (@ResQ_Foundation) May 3, 2017
হিন্দিতে লেখা চিঠিতে তরুণী জানিয়েছেন তার দুর্দশার কথা। জানিয়েছেন, কীভাবে তাকে চাকরির টোপ দিয়ে ভারতে নিয়ে এসে নিষিদ্ধ পল্লিতে পাচার করে দেওয়া হয়। চিঠিটি প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে যৌথভাবে উদ্দেশ্য করে লেখা। চিঠেতে একথাও তরুণীটি উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশে তার বিবাহ হয়েছিল। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির অত্যাচার সহ্য করতে না পরেই তিনি ভারতে চলে আসার সিদ্ধান্ত নেন ও বিপদে পড়েন। বিবাহ বিচ্ছেদের পরে বাংলাদেশের এক গারমেন্টস ফ্যাক্টরিতে কর্মরত অবস্থায় এক সহকর্মী তাকে ভারতে আসার টোপ দেয়। এক দালাল তাকে ভাসিতে নিয়ে আসে এবং এক নেপালি মহিলার কাছে ৫০,০০০ টাকের বিনিময়ে বিক্রি করে দেয়। তার পর তাকে বেঙ্গালুরু নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাকে যৌনকর্মীর পেশায় যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। উদ্ধারের পরে তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি। আপাতত তিনি পুণেতেই রয়ে রয়েছেন।
তার পেশা থেকেই তিনি ১০ হাজার টাকা সঞ্চয় করতে সমর্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওই মহিলা। কিন্তু নোট বাতিলের কল্যাণে সে টাকা আজ অচল। প্রধানমন্ত্রী কি তাকে সাহায্য করতে পারেন, এই তার প্রশ্ন।
নরেন্দ্র মোদী তাঁকে পাঠানো টুইট-বার্তাগুলির প্রতি যত্নবান। এর আগে তিনি একাধিক বার মানবিক আবেদনে সাড়া দিয়েছেন। এই অসহায় তরুণীর ক্ষেত্রে কি তিনি নীরব থাকবেন? মিড-ডে, ডেকান ক্রনিকল।
ইত্তেফাক/রেজা
