মেরিন ড্রাইভ, ট্যুরিজম পার্কে পাল্টে যাবে টেকনাফ

আপডেট : ০৬ মে ২০১৭, ১০:২৩
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ কক্সবাজার আসছেন। তিনি মেরিন ড্রাইভ উদ্বোধন ও নাফ ট্যুরিজম পার্কসহ বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প কাজের উদ্বোধন করবেন। এই খবরে টেকনাফের মানুষের মাঝে বাড়তি আনন্দ দেখা দিয়েছে।
 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টেকনাফকে ঘিরে সরকারের অনেক চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের টেকনাফমুখী করতে শেখ হাসিনার সরকার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। বাস্তবায়নাধীন এসব প্রকল্পের কারণে টেকনাফের দৃশ্যপট দিন দিন পাল্টে যেতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে স্থানীয়রা এর সুফলও ভোগ করছেন। জানা গেছে, ৪৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮০ কিলোমিটারের মেরিন ড্রাইভ পর্যটন ক্ষেত্রে বিশাল একটি মাত্রা এনেছে। কলাতলী হয়ে সাগরের কূলঘেষে নির্মিত বিশ্বমানের সড়কটি সাবরাং অর্থনৈতিক অঞ্চলে এসে শেষ হয়েছে। এই সড়কের দুই পার্শ্বে থাকবে ওয়াকওয়ে, পর্যটকদের সুবিধার্থে থাকবে সড়কজুড়ে ফ্লেক্সিবল পেভমেন্ট, শেড, গাড়ি পার্কিং ও মহিলা পর্যটকদের চেঞ্জিং রুম। সড়কজুড়ে তিনটি বড় আরসিসি সেতু, ৪২টি কালভার্ট, ৩ হাজার মিটার সসার ড্রেন ও ৫০ হাজার মিটার সিসি ব্লক ও জিও ট্যাক্সটাইল থাকবে।
 
এর আগে প্রধানমন্ত্রী ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্রে রূপ দিতে টেকনাফের সাবরাংয়ে ‘সাবরাং অর্থনৈতিক অঞ্চল’ নামে পর্যটন কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন। যেখানে পর্যায়ক্রমে গড়ে তোলা হবে আন্তর্জাতিক মানের হোটেল, কটেজ, বিচ ভিলা, ওয়াটার ভিলা, নাইট ক্লাব, কার পার্কিং, সুইমিং পুল, কনভেনশন হল, বার, অডিটরিয়াম, অ্যামিউজমেন্ট পার্ক, ক্রাফট মার্কেট, ল্যান্ডস্কেপিংসহ আধুনিক উন্নত পর্যটন সুবিধা। এছাড়া নাফ নদীর বুকে জেগে উঠা জালিয়ারদ্বীপের ২৭১ একর জমির উপর গড়ে তোলা হচ্ছে নাফ ট্যুরিজম পার্ক। নাফ ট্যুরিজম পার্কে যাতায়াতের জন্য স্থল বন্দরের পাশ দিয়ে প্রায় ১শ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি অত্যাধুনিক ঝুলন্ত সেতু ও জেটি নির্মাণ করা হবে। সয়েল টেস্ট থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। নাফ ট্যুরিজম পার্ক পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য সেখানে রিসোর্ট, ক্যাবল কার, ওসনেরিয়াম, ভাসমান রেস্টুরেস্ট, ইকো কটেজ, কনভেনশন সেন্টার, সুইমিংপুল, ফানলেক, একুয়া পার্ক, ফিসিং জেটি, এমিউজমেন্ট পার্ক, শিশু পার্ক, ওয়াটার স্পোর্টসসহ অত্যাধুনিক সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে নানামুখী কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে।
 
মেরিন ড্রাইভের মতো নাফ ট্যুরিজম পার্কের কাজ দ্রুত শেষ হলে স্থানীয় জনসাধারণের ভাগ্যের চাকা ঘুরে যাবে। বছরজুড়ে টেকনাফে পর্যটকদের সমাগম ঘটবে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের পদভারে ‘অর্থনৈতিক অঞ্চল’ মুখরিত হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হোসন ছিদ্দিক জানান, মেরিন ড্রাইভ টেকনাফকে নতুনভাবে বিশ্বের দরবারে পরিচিত করবে। নাফ ট্যুরিজম পার্কের কাজ দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। যা সত্যি সত্যি টেকনাফের দৃশ্যপট পাল্টে দিবে।
 
ইত্তেফাক/কেকে