ফ্যশন বিশ্বে মডেলদের ‘শীর্ণ ও পাতলা’ দেখাতে হয় বলে একটি কথা প্রচলিত আছে। তাইতো অনেক নারী কঠোর ডায়েট পালন করে শরীর আকার অস্বাভাবিক রকম কৃশকায় করে তোলে। সাইজ জিরো ফিগার অর্জনের জন্য মডেলরা খাবার গ্রহণ না করার বদঅভ্যাসের স্বীকার হন। কিন্তু এভাবে আর চলতে দিতে রাজি নয় ফ্রান্স।
তাইতো ফ্রান্সে মাত্রাতিরিক্ত শীর্ণ শরীরের ফ্যাশন মডেলকে নিষিদ্ধ করে জারি করা আইন কার্যকর হয়েছে। এই আইন অনুসারে মডেলদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে, বিশেষ করে শরীরের ওজন পরিমাপকের সূচকে (বিএমআই) চিকিৎসকের সনদপত্র লাগবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে তাদের লক্ষ্য হলো মডেলদের অতিমাত্রায় সৌন্দর্যসচেতনতা এবং না খাওয়ার প্রবণতা কমানো। ফ্রান্সের মডেলিং এজেন্সির প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের মুখে মডেলদের জন্য নির্ধারিত বিএমআইয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
চাকরির আবেদন করার জন্য এখন মডেলদের চিকিৎসকের সনদপত্র দিতে হবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন চিকিৎসকেরা। তাঁরাই ঠিক করবেন ওজন, বয়স ও শারীরিক গঠন অনুসারে একজন মডেল মাত্রাতিরিক্ত পাতলা বা শীর্ণ কি না। এই আইন ভেঙে যারা মডেলদের চাকরি দেবেন, তাদের ৭৫ হাজার ইউরো জরিমানা দিতে হতে পারে। অথবা ছয় মাসের কারাদণ্ড হতে পারে।

ফ্রান্সের সমাজকল্যান ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মারিসোল তুরাইন শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, মডেলদের তথাকথিত ‘স্ট্যান্ডার্ড ও অবাস্তব শরীরের ছবি তরুণের মধ্যে হতাশা ও আত্মসম্মানবোধের অভাব পরিলক্ষিত হয় যা স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কেবল ফ্রান্সই নয় ইতালি, স্পেন ও ইসরায়েলেও কম ওজনবিশিষ্ট মডেলদের ওপর আইন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ক্ষুধাহীনতার প্রভাবে ফ্রান্সে ৩০ থেকে ৪০ হাজার মানুষ আক্রান্ত। এরমধ্যে ৯০ শতাংশই নারী। বিবিসি।
ইত্তেফাক/রেজা
