যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় চারটি নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করেছে রাশিয়া। এখন থেকে এসব অঞ্চলে হামলা করা থেকে বিরত থাকবে আন্তর্জাতিক পক্ষগুলো। কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানায় অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া হবে বলে রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের মিত্র রাশিয়া ও ইরানের উদ্যোগে ওই চারটি নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে । সিরীয় বিদ্রোহীদের মিত্র তুরস্ক এসব অঞ্চলের নিরাপত্তা বিধানে গ্যারান্টি দিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ ও সৌদি আরব এ পরিকল্পনায় সায় দিয়েছে বলে মস্কো নিশ্চিত করেছে। এছাড়া সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদেরও এতে সম্মতি রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব, আলেপ্পো এবং হামা প্রদেশ, হোমস প্রদেশের মধ্যাঞ্চল, রাজধানী দামেস্কের নিকটস্থ উত্তর ঘোটা এবং দক্ষিণ সিরিয়ার দারা এবং কুনেইত্রা প্রদেশে এসব নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
গত শুক্রবার মস্কোতে এক সংবাদ সম্মেলন রাশিয়ার উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যালেক্সান্ডার ফোমিন শনিবার মধ্যরাত থেকে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে জানিয়েছিলেন। ওই অঞ্চলগুলোতে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া, আটকে পড়াদের উদ্ধার, স্থানীয় কাছে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ১ মে থেকে রুশ বিমানগুলো সংশ্লিষ্ট এলাকায় হামলা চালানো থেকে বিরত আছে। তবে তারা জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যাবে। মার্কিন বাহিনীও নিরাপদ অঞ্চলে বিমান হামলার চালানো থেকে বিরত থাকবে বলে জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক পক্ষগুলো এ পরিকল্পনায় সমর্থন দিলেও উদ্বেগ জানিয়েছে সিরিয়ার বিদ্রোহীরা। এক বিবৃতিতে বিদ্রোহীদের হাই নেগোশিয়েশন কমিটি (এইচএনসি) এ পরিকল্পনায় সুরক্ষা দেয়ার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই বলে জানিয়েছে। একইসঙ্গে এ পরিকল্পনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতার বিরোধিতা করা হয়েছে। ফলে বিদ্রোহীরা এ পরিকল্পনা মেনে চলবে কি-না, তা স্পষ্ট নয়। ইরানের সম্পৃক্ততা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও। বিবিসি ও আল জাজিরা।
ইত্তেফাক/সাব্বির
