ভোলা সদরের রাজপুর ইউনিয়নের জেলে মোতাহার হোসেন বয়াতির একটি ঘর থেকে গত কয়েক দিন ধরে প্রায় দুইশ' সাপের বাচ্চা ও ডিম ধরেছে গ্রামবাসী। ঘরের মাটি খুঁড়লেই শুধু সাপ বেরিয়ে আসছে। বাচ্চা ও ডিম ধরা পড়লেও বড় সাপগুলো ধরা না পড়ায় ওই গ্রামে আতঙ্ক চলছে।
এ বিষয়ে মোতাহার হোসেন বয়াতি বলেন, 'গত মঙ্গলবার রাতে কুপির আলোতে ঘরের মধ্যে একটি গর্ত দিয়ে এক-দেড় হাত লম্বা একটি সাপ বের হতে দেখে তারা ধাওয়া করার চেষ্টা করলে ফণা তুলে দাঁড়িয়ে আবার ওই গর্তে ঢুকে যায়। পরে তারা রাতে মাটি ও ইট দিয়ে গর্তের মুখ বন্ধ করে দেন। পরের দিন বুধবার সকালে রামদাশপুর থেকে আবু ওঝা এসে গর্তের মুখ খুলে দিলে একে একে ১৫টি বাচ্চা সাপ বেরিয়ে আসে।'
পরে সাপের বাচ্চাগুলো মেরে বাড়িতে ধুল পড়া ছিটিয়ে ওই ওঝা অপারগতা জানিয়ে চলে যান। পরের দিন আবার আসেন আরেক ওঝা আমেনা বেগম। তার চেষ্টায় গ্রামবাসী মাটি খুড়ে আরও ৫০টির মতো সাপ মারতে সক্ষম হন। এভাবে শনিবার পর্যন্ত ১৮০টি সাপ ও ৬০টি ডিম উদ্ধার করা হয়েছে।
ভোলা সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মোমেন মিয়া জানান, একটি সাপ ৩০ থেকে প্রায় ৪০টি ডিম দিতে পারে। সাপ সাধারণত নিরাপদ স্থানে ডিম পেড়ে চলে যায়। পরে এমনিতেই বাচ্চা ফোটে ও সেগুলো নিজে নিজে অন্যত্র চলে যায়। সে হিসেবে বোঝা যাচ্ছে, ঘরের মধ্যে একাধিক সাপ ডিম দিয়েছে। তিনি আরো জানান সাপের বাচ্চা বা সাপের ডিমের সাইজ না দেখে বলা যাচ্ছেনা এগুলো কোন জাতের সাপ।
ইত্তেফাক/জামান
