‌'মামলায় আসামি হলেই তাকে অপরাধী ভাবলে চলবে না'

আপডেট : ০৭ মে ২০১৭, ২০:১১
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারক মো. ইমান আলী বলেছেন, আইনের মধ্যে থেকে সাক্ষ্য ও যুক্তিতর্ক পর্যালোচনা করে মামলার রায় দিতে হবে। মামলায় আসামি হলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অপরাধী ভাবলে চলবে না। তিনি বলেন, এমনভাবে বিচার কাজ পরিচালনা করতে হবে যাতে জনমনে ধারনা হয় যে বিচার বিভাগ স্বাধীন।
 
রবিবার ‘বিচারিক স্বাধীনতা’ শীর্ষক তিনদিন ব্যাপী এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিচারপতি ইমান আলী এসব কথা বলেন। 
 
সুপ্রিম কোর্ট সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সেমিনারে কমনওয়েলথ সচিবালয়ের আইন উপদেষ্টা মার্ক গোথরে, ইংল্যান্ডের বার্মিংহামের এক আদালতের বিচারক শামীম কোরেশী বক্তব্য দেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম। এসময় অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের চিফ ম্যাজিস্ট্রেট রয় রিনাউডো উপস্থিত ছিলেন। অতিরিক্ত জেলা জজ থেকে শুরু করে সহকারী জজ পদমর্যাদার ৪০ জন বিচারক এতে অংশ নিচ্ছেন। 
 
বিচারপতি ইমান আলী বলেন, আমাদের সংবিধানে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট মাসদার হোসেন মামলার রায়ে ১২ দফা নির্দেশনা দিয়েছে। এটা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্যই দেয়া হয়েছে। আমাদের সংবিধানের অভিভাবক করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টকে। 
 
বিচারকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের ওপর বিভিন্ন মহল থেকে চাপ, হুমকি আসতে পারে। কিন্তু বিচার কাজে এসব চাপ বা হুমকি আমলে নেওয়া যাবে না। মুক্ত ও নিরপেক্ষভাবে রায় দিতে হবে।
  
মার্ক গোথরে বলেন, আইনের শাসন, মানবাধিকার, বাক স্বাধীনতা, জীবন ও সম্পদের অধিকার, সুশাসন, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার-এসবই বিচার বিভাগের স্বাধীনতার সঙ্গে সম্পর্কিত। একজন বিচারক হিসেবে আপনাদের কিছু নিয়মনীতি অনুসরণ করতে হবে যা আপনাদের নিরপেক্ষভাবে বিচার কাজ পরিচালনা করতে সাহায্য করবে।