ঝিনাইদহে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান, নিহত দু’জন

আপডেট : ০৮ মে ২০১৭, ০০:১৮

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বজরাপুরে গতকাল রবিবার এক জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানে দুই জন নিহত হয়েছে। তাদের একজনের নাম তুহিন বলে জানা গেছে। নিহত অপর ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানা যায়নি। অভিযান কালে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের এডিসি  নাজমুল হাসান ও এএসআই মহসিন আলি আহত হন। নাজমুল হাসানকে উন্নত চিকিত্সার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পুলিশ বাড়ির মালিক জহরুল ইসলাম ও তার ছেলে জসিম, প্রতিবেশী আলম ও আরিফকে গ্রেফতার করেছে। অভিযানের আগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বজরাপুর জঙ্গি আস্তানার চারপাশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

এর আগে গত শনিবার ঝিনাইদহ সদর উপজেলার লেবুতলা গ্রামের মৃত শরাফত আলী মন্ডলের বাড়িটি জঙ্গি আস্তানা সন্দেহ পুলিশ ঘেরাও করে রাখে। পরে সেখান থেকে ৮টি বোমা ও ১টি নাইন এমএম পিস্তল উদ্ধার করে। ওই আস্তানা থেকে গ্রেফতার করা হয় জঙ্গি শামীমকে। এই শামীমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বজরাপুরে অভিযান চালানো হয়।

ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, পুলিশ ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা ভোর সাড়ে ৩ টার দিকে বজরাপুর গ্রামের জহুরুল ইসলামের বাড়িটি ঘেরাও করে রাখে। পরে সেখানে অভিযান চালাতে গেলে জঙ্গিরা বাধা দেয়।

খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ জানান, নব্য জেএমবি’র আস্তানাটিতে সকালে অভিযান শুরু করলে ভিতর থেকে জঙ্গিরা বোমা ও গুলি ছুঁড়তে থাকে। এসময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে গুলিবিদ্ধ হয়ে ১ জঙ্গি নিহত হয়। এসময় ঘরের ভিতরে বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আরো এক জঙ্গি আত্মঘাতি হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃত শামীমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গতকাল ভোরে মহেশপুরে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালানো হয়। তিনি বলেন, শামীম নব্য জেএমবির সদস্য। হলি আর্টিজানের হামলাকারী নিব্রাসসহ বেশ কয়েকজন জঙ্গি ঝিনাইদহে অবস্থানকালে তাদের থাকা-খাওয়াসহ বিভিন্ন কাজে সহায়তা করতো শামীম। সে জেএমবির সদস্য ছিল, পরে নব্য জেএমবিতে যোগ দেয়। বর্তমানে সে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।

জহুরুল ইসলামের প্রতিবেশী রেজাউল ইসলাম জানান, কয়েক বছর আগে জহুরুল ইসলাম বজরাপুরে এসে বাড়ি করে বসবাস শুরু বরে। মিষ্টি খাজা তৈরি করে বিক্রি করতো। বর্তমানে তাকে কোন কাজকর্ম করতে দেখা যেত না। তার সাথে প্রতিবেশী কারো সম্পর্ক ছিল না। তার বাড়িতে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হতো না।  মাস তিনেক আগে তার বাড়িতে অজ্ঞাত পরিচয় কয়েক জন এসে থাকতে শুরু করে। তারা কারা তা প্রতিবেশীরা বলতে পারেননি। তবে তাদের একজন খালিশপুর বাজারে একটি স’ মিলে  এবং অপরজন খাম্বা তৈরির কারখানায় কাজ করতো বলে জানা গেছে।

অপর এক প্রতিবেশী শাহাজুল ইসলাম বলেন, জহুরুল ইসলাম গ্রামে বসবাস করলেও গ্রামের লোকের সাথে তার কোন সম্পর্ক ছিল না। ওই বাড়ির মেয়েরাও কারো সাথে কথা বলতো না।

উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটি গ্রামের ঠনঠনেপাড়ায় জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশ। ওই আস্তানা থেকে বিস্ফোরক তৈরির রাসায়নিক ভর্তি ২০টি ড্রাম, একটি সেভেন পয়েন্ট সিক্স বোরের পিস্তল, একটা ম্যাগাজিন ও সাত রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

ইত্তেফাক/নূহু