নন্দীগ্রামে ঝড়ে স্কুল বিধ্বস্ত: খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান

আপডেট : ০৮ মে ২০১৭, ১০:১১
 
কালবৈশাখী ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার লুস্কুর আর্দশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ফলে খোলা আকাশের নিচে বসেই চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। প্রচন্ড রোদের মধ্যে ক্লাস করতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে, আকাশে মেঘ দেখলেই দেওয়া হয় ছুটি।
 
২০০০ সালে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গের উদ্যোগে লুস্কুর আর্দশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০১৫ সালে বিদ্যালয়টি (তৃতীয় ধাপে) জাতীয়করণ হয়। মাটির ঘরেই চলে আসছিল বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম।
 
গত ৩০ এপ্রিল রাতে কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যালয়ের ছাউনি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। এতে বিদ্যালয়টিতে পাঠদান কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ না করে খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান। কোমলমতি  শিক্ষার্থীরা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজেই পাঠ গ্রহণ করছে। 
 
IMG0
 
লুস্কুর আর্দশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, ‘গত ৩০ এপ্রিল রাতে কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যালয়ের দুইটি ঘর ভেঙে পড়েছে। এবং বিদ্যালয়ের ছাউনি বিধস্ত হয়ে গেছে। তাই কয়েক দিন ধরে বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচেই ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। বিদ্যালয়ে একশ জন শিক্ষার্থী থাকলেও খোলা আকাশের নিচে ক্লাস নেওয়ার কারণে অনেকে শিক্ষার্থীই বিদ্যালয়ে আসছে না। আবার যারা প্রচন্ড গরমের মধ্যে আসছে, তাদেরও ক্লাস করতে সমস্যা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের নিজস্ব কোনো অর্থ না থাকায় কবে নাগাদ বিদ্যালয়টির মেরামত করা সম্ভব হবে তা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় পড়েছি।’ 
 
তিনি আরো জানান, বিদ্যালয়টি মেরামতের সহযোগিতা চেয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবরে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
 
সরেজমিনে সোমবার সকালে লুস্কুর আর্দশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গিয়ে কথা হয় ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী বাঁনধ চন্দ্র, মনিকা ও  মাহামুদার সঙ্গে। 
 
তারা বলে, গত কয়েকদিন ধরেই খোলা আকাশের নিচে মাঠে বসে লেখাপড়া করছি। রোদ গরমে আমাদের কষ্ট হচ্ছে। সরকারের কাছে আবেদন, অতি দ্রুত আমাদের বিদ্যালয়ের ঝড়ে ভেঙে যাওয়া ঘড়গুলো মেরামত করে দিন।
 
IMG1
 
নন্দীগ্রাম উপজেলা শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলাম বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে লুস্কুর আর্দশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এতে পাঠদানের সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয়টি মেরামতের জন্য প্রধান শিক্ষকের আবেদন পাওয়া গেছে। তার আবেদন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পরিকল্পনা উন্নয়ন শাখায় পাঠানো হয়েছে। আশাকরি, শিগগিরই স্কুলটি মেরামতের প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে। 
 
ইত্তেফাক/কেকে