বিএনপির কর্মী সমাবেশে চেয়ার ছোড়াছুড়ি হচ্ছে : ড. হাছান মাহমুদ

আপডেট : ০৮ মে ২০১৭, ১৮:৪৫
আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি সারাদেশে কর্মী সভা করছে। প্রত্যেকটি কর্মী সমাবেশে নিজেরা নিজেরা মারামারি, চেয়ার ছোড়াছুড়ি করছে। এমন একটি কর্মী সমাবেশ হয়নি যেখানে চেয়ার ছোড়াছুড়ি হয়নি। এটি হচ্ছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার নমুনা। 
 
সোমবার দুপুরে রাজধানীর শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
 
তিনি বলেন, আজকে বিএনপির অসহায়ত্ব দেখে আমরা খুব হতাশ হই। আমরা চাই বিএনপি ঐক্যবদ্ধ থাকুক। আগামী নির্বাচনে তারা অংশগ্রহণ করুক। তাদের বক্তব্যে এটি স্পষ্ট আগামী নির্বাচনে অংশ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
 
গত জাতীয় নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনা আলোচনার জন্য বিএনপিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এখন মির্জা ফখরুল প্রতিদিন বলেন, ‘আমাদের একটু ডাকেন। আমরা কথা বলতে চাই’। অর্থাৎ তাদেরকে একটু ডাকার জন্য তাদের যে অনুনয় বিনয় এটি দেখে আমাদের খুব করুণা হয়। তারা বিদেশিদের কাছে ধারণা দিয়ে বলে আওয়ামী লীগকে বলুন আমাদেরকে একটু ডাকার জন্য।
 
আওয়ামী লীগের এই মুখপাত্র বলেন, আপনাদেরকে ডাকা হয়েছিল। সে সময় যে কর্কশ ভাষায় জবাব দিয়েছিলেন তা আমাদের এখনো মনে আছে। আপনারা জনগণের কাছে ক্ষমা চান। পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ, জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করার জন্য আপনারা জনগণের কাছে ক্ষমা চান। যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গ ত্যাগ করুন। তাহলেই জনগণ আপনাদের বিবেচনা করবে।   
 
‘আওয়ামী লীগ বিএনপিকে ভাগ করতে পারেনি’ বিএনপি মহাসচিবের এমন বক্তব্যের জবাবে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমরা বিএনপিকে ভাগ করতে চাই না। আমরা চাই বিএনপি সুসংগঠিত হয়ে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।
 
তিনি আরো বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একজন অসাম্প্রদায়িক মানুষ ছিলেন। আজকে বাংলাদেশে যে ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়ীক গোষ্টি মাথাছাড়া দিয়ে উঠেছে এটি এভাবে মাথা ছাড়া দিতে পারতো না; যদি ব্যাপকভাবে সংস্কৃতি চর্চা ও রবীন্দ্র চর্চা হতো। 
 
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ধর্ম চর্চা ও সংস্কৃতি চর্চা একসাথে চললে মানুষ ধর্মান্ধ হয়না। আজকের বাংলাদেশে দুইটি ধারা। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি ও বিপক্ষের শক্তি। বিপক্ষের শক্তির হোতা হলো খালেদা জিয়া ও তার দল বিএনপি। বিপক্ষের শক্তির অর্থ হচ্ছে রবীন্দ্র চর্চা করা যাবেনা। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বাংলা বেতারের শব্দ সৈনিক সৈয়দ হাসান ইমামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আকতার হোসেন, শাহবাগ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি জি এম আতিক, আওয়ামী লীগ নেতা এম এ করিম, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা প্রমুখ। 
 
ইত্তেফাক/পাভেল