খুলনা জেলাকে প্রাথমিকভাবে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা

আপডেট : ০৮ মে ২০১৭, ১৭:৩৩
খুলনা জেলাকে প্রাথমিকভাবে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেয়া হয়। এ উপলক্ষে স্থানীয় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন- খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুস সামাদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান।
 
প্রধান অথিতির বক্তৃতায় বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুস সামাদ বলেন, গত বছরের ১ আগস্ট প্রথমবারের মত খুলনা বিভাগকে ভিক্ষুকমুক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এরপর থেকে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় সহযোগিতায় খুলনা বিভাগে ভিক্ষুকমুক্ত কর্মসূচি চলমান রয়েছে। এই পুনর্বাসন প্রক্রিয়া একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং আগামী ২০ মের মধ্যে খুলনা বিভাগকে ভিক্ষুকমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি ভিক্ষুককে ভিক্ষা না দেয়ার জন্য এবং যাকাত বা দানের টাকা ভিক্ষুক পুনর্বাসন ফান্ডে প্রদানের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি এসময় পেশাদার বা ব্যবসায়ী ভিক্ষুকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ারও ঘোষণা দেন।
 
জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান খুলনা জেলায় ভিক্ষুকমুক্ত কর্মসূচির বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে বলেন, খুলনা মহানগরীসহ জেলার ৯টি উপজেলায় এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৪শ ৯৭ জন ভিক্ষুক শনাক্ত করা হয়েছে। এমধ্যে ৩ হাজার ৪৬৩ জন ভিক্ষুককে বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য বিভিন্ন উপকরণ ও রেশনিংয়ের আতওতায় পুনর্বাসিত করা হয়েছে। বাকি ৩০ জনের মধ্যে ৩জন মারা গেছেন এবং ২৭ জন উপকরণ সামগ্রী নিতে আসেনি। ভিক্ষুকমুক্ত কর্মসূচি ফান্ডে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এক দিনে বেতন, পুলিশ বিভাগ, বিভিন্ন সংগঠন, সমিতি, এনজিও ও বিত্তবানদের সহযোগিতায় এ পর্যন্ত ৮৭ লাখ ৩৪ হাজার ৪৫৭ টাকা সংগ্রহ হয়েছে। যা থেকে ৭২ লাখ ১ হাজার ৫৮৫ টাকা পুনর্বাসন কাজে ব্যয় হয়েছে। অবশিষ্ট  ১৬ লাখ ৪১ হাজার ৮৯৯ টাকা দিয়ে পরবর্তীতে এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।
 
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. গিয়াস উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহ, খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম হাবিব ও মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার অধ্যাপক আলমগীর কবির এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
 
ইত্তেফাক/এমআই