গাড়ি কিনে না দেওয়ায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা!

আপডেট : ১১ মে ২০১৭, ০১:০০

গাড়ি কিনে না দেওয়ায় কলেজ ছাত্রী ফাতেমা তুজ জোহুরা মনিষাকে তার যৌতুকলোভী স্বামী পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছে নিহতের পরিবার। হত্যার পর কৌশলে মনিষার স্বামী কে এস. এম. খালেকুজ্জামান তারেক সপরিবারে গা-ঢাকা দিয়েছেন। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মনিষার বাবা মোস্তফা কামাল এই অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মনিষার বাবা বলেন, গত বছরের ২১ জানুয়ারি তার দ্বিতীয় মেয়ে লালমাটিয়া মহিলা কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী মনিষার সঙ্গে দক্ষিণখানের ৩৮২ জামান গার্ডেন, আজমপুর দেওয়ান বাড়ির আখতারুজ্জামানের ছেলে কে এস. এম. খালেকুজ্জামান তারেকের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, জামাইকে হীরার আংটি, এসি,    আসবাবপত্রসহ দশ লাখ টাকার মালামাল দেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও মন ভরেনি তারেকের। কিছুদিন না যেতেই বিভিন্ন অজুহাতে তারেক যৌতুকের জন্য মনিষাকে চাপ দিতে থাকে। সর্বশেষ গত মাসের ২৫ তারিখ মনিষাকে যৌতুকের জন্য মারধর করে তারেক। বাধ্য হয়ে মনিষা তার বাবাকে বিষয়টি জানায়। তারেক তাকে জানিয়ে দেয় আগামী ১০ দিনের মধ্যে ১০ লাখ টাকা ও একটি প্রিমিও প্রাইভেট কার না দিলে মনিষাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হবে।

মোস্তফা কামাল আরো বলেন, মেয়ের কথা চিন্তা করে ১ মে দুই লাখ টাকা দিয়ে মনিষার ছোট ভাইকে তারেকের কাছে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে তাকে বলা হয় খুব শিগগিরই তার দাবিকৃত টাকা ও গাড়ি পৌঁছে দেওয়া হবে। কিন্তু দেরি সহ্য হয়নি তারেকের। বিয়ের সময় দেওয়া এসিটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আরো একটি এসি কিনে দেওয়ার দাবি তোলে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ৪ মে রাতের কোনো এক সময়ে মনিষাকে ব্যাপক মারধর করা হয়। পরে তাকে উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিত্সকরা জানান যে মনিষার আগেই মৃত্যু হয়েছে। সেখান থেকে তারেকের বাবা লাশ নিয়ে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যান। তিনি অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় তারেকের পরিবার মনিষার লাশের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। আমি একজন অসহায় পিতা। আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার এসআই কবির হোসেন জানান, ঘটনার পর তারেকসহ অন্য আসামিরা গা-ঢাকা দিয়েছে। তবে তাদের ধরতে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, তারেক যাতে বিদেশে পালাতে না পারে সে জন্য ইতোমধ্যে বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনসহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সোর্সের পাশাপাশি প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার অবস্থান সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আশা করছি শিগগিরই আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।

ইত্তেফাক/নূহু