এক বাড়ির জন্যে কোটি টাকার সেতু !

আপডেট : ১২ মে ২০১৭, ২১:৫৩
 
মানিকগঞ্জের ঘিওরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধায়নে নির্মিত হচ্ছে একটি সেতু। প্রায় কোটি টাকা বাজেটের এই সেতুটির সুবিধাভোগী হবে হাতে গোনা কয়েকজন মানুষ। বিশেষ একটি বাড়ির সীমিত সংখ্যক মানুষের জন্য সেতু নির্মাণে হতবাক এলাকাবাসী।
 
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বানিয়াজুরি-ঘিওর সড়কের পাশেই পুটিয়াজানি গ্রামে জাবরা খালের ওপর ২১ মিটার দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ৪মিটার প্রস্থের একটি সেতু নির্মাণ হচ্ছে। ৮৬লাখ টাকা বাজেটের এই সেতুটির গোঁড়ায় নেই সংযোগ সড়ক, নেই চলাচলের রাস্তা। সেতুর ঢালেই চোখে পড়বে সারি সারি গাছপালা। ঢাকাস্থ মানিকগঞ্জ সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দিন কুটু উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করে এই সেতুর কাজ করাচ্ছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। মূলত তার বাড়ির ৫/৬জন সদস্যদের জন্যই এই সেতুটি নির্মাণ করে দিচ্ছে এলজিইডি এমনটি দাবি করছে এলাকাবাসী।
 
এ বিষয়ে সালাউদ্দিন কুটু বলেন, 'আমি এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে একটি সেতুর কথা বলেছিলাম। তারা নিজেরাই মাপজোখ করে এই সেতু নির্মাণ করে দিচ্ছে। এখন তারা ছোট সেতু করে দিবে, না বড় দিবে সেটি তাদের ব্যাপার। এত বড় সেতু নির্মাণে আমি নিজেও বিব্রত। কুটুর প্রতিবেশী আবুল কাশেম জানায়, কুটু ও তাদের বাড়ির পাশে মোট তিন/চারটি বাড়ি রয়েছে। ওই সেতু নির্মাণের ব্যাপারে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি।
 
এই সেতুতে আবুল কাশেমের কিছুটা জায়গা পড়েছিল। সেখানে কয়েকটি বড় বড় গাছ ছিল, সেগুলো কেটে ফেলা হয়েছে। উপজেলা এলজিইডিকে জানানো হলেও তারা বিষয়টি আমলে নেয়নি। সেতুটি নির্মাণ হচ্ছে মরহুম মুক্তিযোদ্ধা বরকত আলীর জায়গায়। বরকত আলীর স্ত্রী জবেলা খাতুন জানান, এই সেতুতে তার ৭/৮ শতাংশ জায়গা চলে গেছে। এর জন্য তাকে কোন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। 
 
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এই জাবরা খালেই কুটুর বাড়ির আসে পাশে আরো কয়েকটি সেতু রয়েছে। একেবারে সরু এসব সেতু দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে অসংখ্য মানুষ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দূর্গাবাড়ি এলাকার কয়েকজন জানিয়েছেন, আমাদের সরু ভাঙ্গাচোরা সেতু দিয়ে প্রতিদিন শতশত মানুষ চলাচল করে। আর কুটুর বাড়ির সামনে কয়েকজন মানুষের চলাচলের জন্য এতবড় ব্রিজ সরকার কিভাবে করে দিল বিষয়টি অত্যন্ত চিন্তনীয়। ওই বাড়ির সামনে বড়জোর একটি বক্স কালভার্ট করে দিত পারত।
 
স্থানীয় বানিয়াজুরি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম চতু জানান, এক ব্যক্তির স্বার্থেই ওই সেতু নির্মাণ হচ্ছে। ঘিওরে এমনও অনেক জায়গা রয়েছে যেখানে সেতুর অভাবে হাজারো মানুষ কষ্টে রয়েছে। জনস্বার্থে সেতুটি নির্মিত হলে অনেক মানুষ উপকৃত হতো। এব্যাপারে মানিকগঞ্জ এলজিইডি'র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বারেক হাওলাদার জানান, স্থানীয় জনগণের চাহিদার ভিত্তিতেই সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে।
 
ইত্তেফাক/জামান