রাজশাহীর গোদাগাড়ী মাছপাড়া বেণীপাড়ার জঙ্গি আস্তানা থেকে আত্মসমর্পণকারী সুমাইয়াসহ ১৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে গোদাগাড়ী মডেল থানা পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যায় গোদাগাড়ী থানার এসআই নাইমুল হক বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিপজুর আলম মুন্সি বলেন, ফায়ার সার্ভিস কর্মী হত্যা, পুলিশের ওপর হামলা এবং বিস্ফোরক ব্যবহার করায় আত্মসমর্পণকারী সুমাইয়াসহ ১৫ জঙ্গির বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার ভোর থেকে উপজেলার বেনীপুর গ্রামের সাজ্জাদ আলী ওরফে মিস্টুর (৫০) বাড়িটি ঘিরে রাখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এরপর ভেতরে থাকা জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু জঙ্গিরা তাতে সাড়া দেয়নি। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তখন বাড়িতে পানি স্প্রে করা শুরু করে। এ সময় জঙ্গিরা বাড়ি থেকে বের হয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এক নারী জঙ্গি প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মী আবদুল মতিনকে। এ সময় দুই পুলিশ সদস্যও আহত হন।
শুক্রবার বেনীপুরে জঙ্গি আস্তানায় ‘অপারেশন সান ডেভিল’ সমাপ্ত ঘোষাণা করেন রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন) নিশারুল আরিফ। এসময় জঙ্গি আস্তানা থেকে একটি পিস্তল, ২ রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগাজিন ও ১১টি বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় বাড়ির মালিক সাজ্জাদ হোসেন (৫০), তার স্ত্রী বেলী বেগম (৪৫), মেয়ে কারিমা খাতুন (১৯) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আশরাফুল নিহত হয়। অভিযানের পর সাজ্জাদের মেয়ে সুমাইয়া পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে। বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় সুমাইয়ার দুই শিশু সন্তানকে।
গতকাল শনিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গ থেকে মরদেহগুলো দাফনের জন্য কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুপুর সোয়া তিনটার দিকে নগরীর হেতমখাঁ গোরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।
এদিকে এ ঘটনায় আত্মসমর্পণকারী নিহত সাজ্জাদের মেয়ে সুমাইয়া খাতুনকে পুলিশ হেফাজতে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাকে পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হবে বলে জানান গোদাগাড়ী থানার ওসি হিপজুর আলম মুন্সি।
ইত্তেফাক/নূহু
