৯৯ দেশে সাইবার হামলায় অচল স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও টেলিকম খাত

আপডেট : ১৪ মে ২০১৭, ০০:২৩

বিশ্বের ৯৯টি দেশে সাইবার হামলা হয়েছে। এসব দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ‘র্যানসমওয়্যার’ ছড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে ৩০০ ডলার থেকে ৬০০ ডলার করে চাওয়া হয়েছে। অনেক দেশের স্বাস্থ্য, টেলিকম বা যোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত এই হামলার শিকার হয়েছে। আমেরিকার ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির (এনসএসএ) তৈরি করা হ্যাকিং প্রযুক্তি চুরি করেই এই সাইবার হামলা হয়েছে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। খবর সিএনএন, রয়টার্স ও বিবিসি’র

জানা গেছে, ৯৯টি দেশের কম্পিউটার এই হামলা শিকার হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, স্পেন, ইতালি আর তাইওয়ান। সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা অ্যাভাস্ট জানিয়েছে, রাশিয়া, ইউক্রেন এবং তাইওয়ানকে লক্ষ্য করেই বেশিরভাগ হামলা হয়েছে। এসব দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান আক্রান্ত হয়েছে। বিশেষ করে বড় ধরণের হামলার মুখে পড়েছে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস। দেশটির স্বাস্থ্য খাতের ১৬টি সংস্থা হামলার কবলে পড়েছে। হাসপাতালে জরুরি চিকিত্সা সেবা বন্ধ করে রাখতে হয়। অনেক রোগীর অপারেশন করাও সম্ভব হয়নি। অনেক রোগীকে ভর্তি পর্যন্ত করা হয়নি।

স্পেনের টেলিকম ও জ্বালানি কোম্পানি, চীনের বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডেলিভারি কোম্পানি ফেডএক্স এই হামলার শিকার হয়েছে। ইউরোপোল জানিয়েছে, এই হামলা ছিল অপ্রত্যাশিত এবং এর আন্তর্জাতিক তদন্ত দরকার। চীনের ইন্টারনেট নিরাপত্তা কোম্পানি কিউইহো৩৬০ সতর্ক করে দিয়েছে, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজের বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের কম্পিউটারে হামলা করা হতে পারে। এর বিনিময়ে অর্থ দাবি করা হবে।

বিবিসির প্রযুক্তি সংবাদদাতা জোয়ানি ক্লেইনম্যান বলছেন, ‘র্যানসমওয়্যার’ হচ্ছে এমন এক ধরণের ম্যালওয়ার বা ভাইরাস, যা কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং ব্যবহারকারীকে প্রবেশে বাধা দেয়। অনেক সময় হার্ডডিস্কের অংশ বা ফাইল পাসওয়ার্ড দিয়ে অবোধ্য করে ফেলে। পরে ওই কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ ফেরত দেয়ার জন্য অর্থ দাবি করা হয়। ‘ট্রোজান ভাইরাসের’ মতো এ ধরণের ম্যালওয়ার এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা অ্যাভাস্ট বলছে, ওয়ানাক্রাই এবং ভ্যারিয়্যান্ট নামের র্যানসমওয়্যারের শিকার ৭৫ হাজার কম্পিউটার আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পেয়েছেন। সংস্থাটির ম্যালওয়্যার বিশেষজ্ঞ জ্যাকব ক্রুসটেক বলছেন, এটা বিশাল একটা ব্যাপার।

ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংস্থা এনএসএর তৈরি করা একটি টুল ব্যবহার করে এই সাইবার হামলা চালানো হয়। গত এপ্রিলে শ্যাডো ব্রোকারস নামের হ্যাকাররা ওই প্রযুক্তিটি চুরি করে এবং ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। গত মার্চে এটি ঠেকাতে একটি নিরাপত্তা প্যাচ ছাড়ে মাইক্রোসফট, কিন্তু অনেক কম্পিউটার তাতে আপডেট করা হয়নি। এদিকে, জানা যাচ্ছে, এই রানসমওয়্যারে বিট কয়েনের যেসব ওয়ালেটে অর্থ জমা দিতে বলা হয়েছে, সেখানে নতুন করে মোটা অর্থ জমা পড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

ইত্তেফাক/নূহু