ভারতে পাচার হয়ে যাওয়া এক তরুণীকে উদ্ধার করেছে র্যাব-৮ ফরিদপুরের সদস্যরা। এ সময় পাচারকারী চক্রের মূল হোতাসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন— নড়াইল জেলার নড়াগাতি উপজেলার মাউলী গ্রামের কালিপদ দাসের ছেলে কৃষ্ণপদ দাস (৩৮), রাজবাড়ীর শহীদ মণ্ডলের ছেলে রইস মণ্ডল (২৫) ও সাতক্ষীরা জেলার পাটকেলঘাটার ধানদিয়া গ্রামের আবু বকর সানার ছেলে বাবু সানা (২৭)।
র্যাব-৮ ফরিদপুর কোম্পানি অধিনায়ক মো. রইছ উদ্দিন জানান, আনুমানিক দেড় মাস আগে নগরকান্দার তরুণী পারুল আক্তরকে বিয়ে করে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার গৌরীপুর গ্রামের শহীদ মণ্ডলের ছেলে রইস মণ্ডল। পরবর্তীতে মানবপাচার চক্রের মাধ্যমে তাকে ভারতে পাচার করে দেয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করে মেয়েকে না পেয়ে নগরকান্দা থানায় সাধারণ ডায়রি করে পারুলের মা এবং বিষয়টি র্যাব ৮ ফরিদপুর ক্যাম্পকে জানায়।
২৮ এপ্রিল থেকে ১৩ মে ১৫ দিন র্যাব ব্যাপক অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে জানতে পারে পারুলকে ভারতে পাচার করে দেয়া হয়েছে। এ সময় চক্রের সদস্যদের পরিচয়ও পায় র্যাব।
গত ১০ মে ফরিদপুর মহাবিদ্যালয় এলাকায় অভিযান চালিয়ে পারুলের কথিক স্বামী রইসকে আটক করে র্যাব। তার কাছ থেকে কৃষ্ণপদ ও বাবুর তথ্য পায় র্যাব। অনুসন্ধানে র্যাব জানতে পারে কৃষ্ণপদ ওই তরুণীকে নিয়ে ইতিমধ্যেই ভারত চলে গেছে। র্যাব কৃষ্ণপদের ভারতের নম্বর জোগাড় করে কৌশলের আশ্রয় নেয়।
র্যাব কৃষ্ণ ও বাবুর বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে চাপ প্রয়োগ করে এবং কৃষ্ণের ভারতের নম্বরে যোগাযোগ করে। এতে কৃষ্ণকে গ্রেফতার করা হবে না এই শর্তে মেয়েটিকে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে রাজি হয় সে।
শর্ত মোতাবেক ১৩ মে শনিবার মেয়েটিকে ফিরিয়ে এনে যশোরের শার্শা উপজেলার বড় আছরা গ্রামের মোনতাজ সরদারের বাড়িতে রেখে পালিয়ে যাওয়ার সময় বেনাপোল বন্দর এলাকা থেকে কৃষ্ণ ও বাবুকে আটক করে র্যাব। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় শার্শার ওই বাড়ি থেকে পারুল আক্তারকে উদ্ধার করে র্যাব।
এই ঘটনায় পারুলের মা পাচী বেগম বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় মানবপাচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আটক ৩ জন ও উদ্ধার হওয়া ভিকটিমকে নগরকান্দা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে র্যাব।
ইত্তেফাক/এএম।
