ঝড়ে ভেঙে গেছে শাহবাজপুর কাচারীপাড়া সরকারি বিদ্যালয়

আপডেট : ১৪ মে ২০১৭, ২৩:৫৮

জেলায় সদর উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নে শাহবাজপুর কাচারীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র টিনশেড ঘরটি ঝড়ে উপড়ে পড়ে ভেঙে গেছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের খোলা আকাশের নিচে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে পাঠদান অব্যাহত রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যালয়ের একমাত্র টিনশেড ঘরটি সম্পূর্ণ ভেঙে যায়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদা জাহান জানান, গত এক সপ্তাহ আগে ঝড়ে বিদ্যালয়ের ঘরটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। ঘরটি ঝড়ে ভেঙে যাওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থীদের খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করাতে হচ্ছে। ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয় ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১১৫ জন। শিক্ষক রয়েছেন চার জন। ২০১৫ সালেও ঝড়ে বিদ্যালয়ের ঘর ভেঙে গেলে শিক্ষার্থীদের মাঠে ক্লাস করাতে হয়েছে। পরে এলাকাবাসী ও উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় ঘরটি পুনর্নির্মাণ করে পাঠদান চলছিল।

তিনি আরো জানান, এরপর গত ৬ মে শনিবার রাতে কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যালয়ের ঘরটি সম্পূর্ণরূপে ভেঙে যাওয়ায় পাঠদান ব্যাহত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রায় দিনই ঝড়বৃষ্টি হয়ে থাকে। আবার কখনও প্রচণ্ড রোদের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করাতে হচ্ছে। তাই তিনি জরুরি ভিত্তিতে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরটি পুনরায় নির্মাণ করে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।   

আব্দুর রহিম, আনোয়ারা, রহিমাসহ শিক্ষার্থীরা জানায়, তাদের বিদ্যালয়ের একটি মাত্র ঘর ঝড়ে ভেঙে গেছে। কষ্ট করে ক্লাস করতে হচ্ছে। ভবন না থাকায় পড়াশোনা ঠিকমত হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যালয়টির একটি পাকা ভবন নির্মাণ করে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তথা সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জামালপুর সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোবাখারুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিদ্যালয়টির জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের কারণে জমির উপর নিজস্ব ভবন নির্মাণ করা যাচ্ছে না। বিরোধের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উপস্থিতিও দিন দিন কমে যাচ্ছে। বিদ্যালয় ভবন তৈরির জন্য আমরা অনেক বার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। তাই আমাদের পক্ষে নতুন করে ঘর তোলা সম্ভব নয়। তবে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ফরহাদ আলী স্কুলটি পরিদর্শন করেছেন।

ইত্তেফাক/নূহু