মেয়র সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ

গুরুদাসপুরের পৌরমেয়র শাহনেওয়াজকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার

আপডেট : ১৫ মে ২০১৭, ১৬:১০
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র শাহনেওয়াজ আলীসহ তার তিন সমর্থককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকা থেকে শাহবাগ ও গুরুদাসপুর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়।  
 
গ্রেফতারকৃত মেয়রের তিন সমর্থক মো. আমিরুল সোনার (৩২), বক্স সোনার (৩০) ও বাবু (২৪)। গুরুদাসপুর থানার উপপরিদর্শক সাইদুজ্জামানের দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। 
 
সরকারি কাজে বাধা প্রদান করার অভিযোগে মেয়র শাহনেওয়াজ আলীসহ ৬৭জন এজাহার ভুক্ত আসামি ও অজ্ঞাত নামা ২০০জনকে অভিযুক্ত করে বৃহস্পতিবার মামলাটি দায়ের করা হয়। ঘটনার দিন মেয়রের দুই সমর্থক আমিনুল ইসলাম রবিন (২২) ও মনিরুল ইসলাম মিঠুনকে (২২) গ্রেফতার করে পুলিশ।
 
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ পরিদর্শক (এসআই) নুরে আলম বলেন, ঘটনার পর থেকে মেয়র ও তার সমর্থকরা পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার সকালে শাহবাগ থানার সহযোগিতায় জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকা থেকে মেয়রসহ তার তিন সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভাকে কেন্দ্র করে পুলিশ-মেয়র সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ওই সভায় নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সাংসদ আব্দুল কুদ্দুস প্রধান অথিতি হিসাবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তার আগমনকে ঘিরে গুরুদাসপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র শাহনেওয়াজ আলীর সমর্থকরা ৫০-৬০টি মোটরসাইকেল বহর নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আসেন। এসময় মেয়র শাহনেওয়াজের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। 
 
পুলিশ জানায়, মেয়র সমর্থকরা সংসদ সদস্যের ওপর হামলা চালাতে পারে এমন শঙ্কায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই উপজেলা পরিষদের সবকটি ফটকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সমন্বয় সভায় মনোনীত সদস্য ছাড়া অন্যদের প্রবেশে বাধা দেন কর্তব্যরত সহকারী পরিদর্শক (এএস আই) জাহাঙ্গির ও কন্সটেবল শহিদুল ইসলাম। এসময় পুলিশের সাথে কথাকাটাকাটির একপর্যয়ে মেয়রের এক সমর্থক পুলিশের কন্সটেবল শহিদুলের অস্ত্র ধরে টানা হেঁচড়া করে এবং ওই কন্সটেবলকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। এসময় মেয়র সমর্থকরা পুলিশের ওপর হামলা করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ ও মেয়র সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এসময় মেয়রের কর্মী সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠি চার্জ এবং ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। সংঘর্ষে পুলিশের সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) জাহাঙ্গির, আশিক, কন্সটেবল বাতেন (৬১৫), উপপরিদর্শক তারেকুল ইসলাম ও সাইদুজ্জামান আহত হন।
 
মেয়রের চাচতো ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সভাপতি আনিস মোল্লা মোবাইল ফোনে জানান, মামলা দায়ের হওয়ার পর জামিনের জন্য ঢাকায় যান মেয়র। সোমবার সকালে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সময় মেয়রসহ তার তিন সমর্থককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।    
 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় শহরে থমথমে অবস্থা চলছিল। সংঘর্ষের একপর্যায়ে পুলিশি রোষানলে পড়েন মেয়র। উপজেলা পরিষদ চত্বরে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) গণপতি রায় ও গুরুদাসপুর থানার ওসি তদন্ত তারেকুর রহমান পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। 
 
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র শাহনেওয়াজ আলী বৃহস্পতিবার মোবাইল ফোনে দাবি করেন, পুলিশ সংসদ সদস্য কুদ্দুসের মদদে অন্যায়ভাবে তার ওপরে লাঠিচার্জ করেছেন। তাকে শারীরিক ভাবে জনসম্মুখে নির্যাতন করা হয়েছে। এসময় তিনিসহ তার ৫জন সমর্থক পুলিশের গুলি ও লাঠির আঘাতে আহত হয়েছেন। তিনি ও তার আহত সমর্থকরা নাটোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। আবার হয়রানি করতে তাকেসহ তার সমর্থকদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। তিনি এই যড়যন্ত্রের বিচার দাবি করেন।  
পুলিশের কয়েকজন করতব্যরত সদস্য দাবি করেন, উপজেলা পরিষদে মেয়রকে সদলবলে প্রবেশে নিষেধ করাতে তারা পুলিশকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে মেয়র শাহনেওয়াজের উপস্থিতিতেই পুলিশের ওপর হামলা চালান তার সমর্থকরা। এসময় ৫ পুলিশ সদস্য আহত হন।  
 
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দিলীপ কুমার দাস ইত্তেফাককে বলেন, মাসিক সমন্বয় সভায় সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুসকে বাধা প্রদান করতেই মেয়র তার দলবল নিয়ে আসেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে সকাল থেকেই উপজেলা পরিষদের সবকটি প্রবেশ পথে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তাছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে উপজেলা সমন্বয় সভার সদস্য ছাড়া অন্য কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু মেয়র তার কর্মী সমর্থক নিয়ে জোরপূর্বক পরিষদের ভেতর প্রবেশের চেষ্টা করেন। পুলিশ বাধা দিলে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ কারণে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতেই লাঠি চার্জ করে। সরকারি কাজে বাধা প্রদানের কারণে মেয়রসহ তার সমর্থকদের অভিযুক্ত করে মামলা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহবাগ থানার সহযোগিতায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক নুরে আলম ঢাকা থেকে মেয়রসহ তার তিন সমর্থককে গ্রেফতার করেছে। সোমবারই তাদের নাটোর আনা হয়েছে। 
 
ইত্তেফাক/পাভেল