সদ্য বরখাস্ত হওয়া এফবিআই প্রধান জেমস কোমির সঙ্গে ফোনালাপের ঘটনায় বিব্রত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি। ওই ফোনালাপের রেকর্ড জমা দিতে ট্রাম্পের চাপ দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের জেষ্ঠ্য আইনপ্রণেতারা। ট্রাম্প কোমির কাছে আসলেই আনুগত্য চেয়েছিলেন কি-না, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে চান মার্কিন সিনেটররা।
মার্কিন সিনেটের ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতা চাক শুমার বলেন, ‘যদি সত্যিই কোনো রেকর্ডিং থেকে থাকে তবে তা প্রকাশ করা উচিত। আর হোয়াইট হাউজ যদি এ রেকর্ডিং নষ্ট করে ফেলে, তবে তা হবে আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’ তিনি আরো বলেন, ‘আর রেকর্ডিং না থাকলে মিথ্যা তথ্য দেয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দেশবাসী ও জেমস কোমির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।’ রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, ‘ট্রাম্প কোমির আলাপচারিতার রেকর্ডের বিষয়ে বাতাসে যে গুজব ভাসছে, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউসের অবস্থান জানানো উচিত। কোনো রেকর্ডিং থেকে থাকলে তা অবশ্যই প্রকাশ করতে হবে।’
গত ৯ মে এফবিআই প্রধান জেমস কোমিকে বরখাস্ত করেন ট্রাম্প। এর পরপরই কোমির দুজন সহকর্মীর বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস দাবি করে, প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার সপ্তাহখানেক পর ট্রাম্প কোমিকে হোয়াইট হাউসে ব্যক্তিগত ডিনারে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন৷ সেই সময় ট্রাম্পের প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার করতে অস্বীকৃতি জানান কোমি। তিনি বলেন, তিনি প্রেসিডেন্টের প্রতি সৎ থাকবেন৷ তার এ প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের মন গলাতে পারেনি। তবে কোমির বরখাস্তের কারণ হিসেবে ট্রাম্প বলেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের ইমেইল কেলেঙ্কারির ঘটনা তদন্তে কোমির ভূমিকার কারণে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
শুক্রবার ট্রাম্প এক টুইট বার্তায় কোমিকে হুমকি দেন। তিনি টুইটার পোস্টে লেখেন, সংবাদমাধ্যমের কাছে কিছু বলার আগে কোমির বরং মনে রাখা উচিত, আমাদের আলোচনার কোনও অডিও অনুলিপি নেই। ট্রাম্পের ওই টুইটের এক ঘণ্টা পরেই উইকিলিকস তাদের টুইটার অ্যাকাউন্টে অডিও অনুলিপিটির জন্য পুরস্কার ঘোষণা করে। এদিকে ডেমোক্র্যাটরা দাবি করছেন, ট্রাম্পের রুশ সংযোগ নিয়ে তদন্তের কারণেই কোমিকে বরখাস্ত করেছে প্রশাসন। তবে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এফবিআই প্রধান জেমস কোমিকে বরখাস্তের কথা বিবেচনা করছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিবিসি ও রয়টার্স।
ইত্তেফাক/সাব্বির
