গয়েশ্বরের উপস্থিতিতে বিএনপির সম্মেলনে ফের সংঘর্ষ

আপডেট : ১৬ মে ২০১৭, ২০:৫২
সোমবার রাজশাহী মহানগর বিএনপির প্রতিনিধি সম্মেলনে সংঘর্ষের পর মঙ্গলবার রাজশাহী জেলা বিএনপির প্রতিনিধি সম্মেলনেও দলের বঞ্চিত নেতাকর্মীরা দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।  
 
IMG0
 
বেলা ১১টার দিকে নগরীর পাঠানপাড়ার উত্তরা কমিউনিটি সেন্টারে প্রতিনিধি সম্মেলন শুরুর পরপরই প্রথম দফায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু এবং বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর উপস্থিতিতে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।  
 
রাজশাহী জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপু এবং সাবেক সভাপতি ও এমপি নাদিম মোস্তফার সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় বিক্ষুব্ধ দলীয় নেতাকর্মীরা সম্মেলনের মঞ্চ লক্ষ্য করে জুতা-স্যান্ডেল ও পানির বোতল ছুড়ে মারেন এবং মঞ্চের ব্যানার টেনে ছিড়ে ফেলেন। ভাঙচুর করেন সমাবেশ স্থলের চেয়ারটেবিল। তখন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, রাজশাহী বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত খালেক ও রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সফিকুল হক মিলন প্রমুখ। পরে কেন্দ্রীয় তিন নেতার বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে প্রতিনিধি সম্মেলন শেষ করে দেয়া হয়। 
 
 
IMG1
 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিনিধি সম্মেলনে জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপুকে সভাপতি ঘোষণার পরপরই সাবেক সভাপতি নাদিম মোস্তফার সমর্থকরা সমাবেশ স্থলে হৈচৈ শুরু করেন। এ সময় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে সম্মেলন শুরু হয়। এরপর স্থানীয় নেতাদের মঞ্চে আহ্বান নিয়ে দ্বিতীয় দফায় হৈচৈ ও হাতাহাতি ও ভাংচুর শুরু হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা মঞ্চে উঠে ব্যানার টেনে ছিড়ে ফেলেন। এর কিছুক্ষণ পর সাবেক সভাপতি ও এমপি নাদিম মোস্তফার সমর্থক জেলার সহসভাপতি দেলোয়ার হোসেন ও যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ মহসিনের নেতৃত্বে মিছিল নিয়ে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করলে আবারও সংঘর্ষ এবং ভাংচুর শুরু হয়। এ সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় উঠে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। তবে এই ঘটনার পর কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী বেরিয়ে যায়। পরে রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার মাইক নিয়ে নেতাকর্মীদের ভিতরে প্রবেশ করতে বলেন এবং তিনি বক্তব্য রাখেন। এর পর গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও মিজানুর রহমান মিনু বক্তব্য রেখে সমাবেশ শেষ করেন। 
 
এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, জেলা বিএনপির নতুন কমিটির পদ বঞ্চিত বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সমন্বয়হীনতার কারণেই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
 
তবে জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপু বলেন, দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদার জিয়ার নির্দেশে গত ২৭ এপ্রিল জেলা বিএনপির পুর্নাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বেগম খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্ত যারা মেনে নেয়নি তারা পরিকল্পিতভাবে প্রতিনিধি সম্মেলন পণ্ড করতে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
 
ইত্তেফাক/ইউবি