যশোরের বাঘারপাড়ার 'রাজাকার' আমজেদ মোল্লাকে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আগামীকাল বুধবার আদালতের নির্দেশনা নিয়ে তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করা হতে পারে।
আমজেদ মোল্লা যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার প্রেমচারা গ্রামের মৃত. সোবহান মোল্লার ছেলে। তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মামলা হয়েছে। বাঘারপাড়া থানার ওসি শেখ মতিয়ার রহমান জানান, আমজেদ মোল্লাকে সোমবার রাতে তার বাড়ি থেকে আটক করা হয়। ২০১৪ সালের একটি নাশকতা মামলায় তাকে আটক দেখিয়ে মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছে। বুধবার তাকে ফের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।
মাগুরার শালিখা উপজেলার সীমাখালি গ্রামের (যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার পার্শ্ববর্তী গ্রাম) রজব আলী বিশ্বাসের ছেলে মামলার বাদী খোকন বিশ্বাস জানান, ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে মাগুরার সীমাখালি বাজারের পাশে আমবাগানের দাঁড়িয়ে ছিলেন আসামি আমজেদ রাজাকারের নেতৃত্বে ১০-১২জন। তারা মামলার বাদীর পিতা রজব আলী বিশ্বাসকে অপহরণ করে যশোরের বাঘারপাড়া থানার চাঁদপুর গ্রামে ইফাজ মোল্লার আমবাগানে নিয়ে যায়।
সেখানে বাদীর পিতাকে গামছা দিয়ে চোখ ও দড়ি দিয়ে হাত বেঁধে বাগানের দক্ষিণপাশে নিয়ে জবাই করে হত্যা করে। বাদী ও সাক্ষীগণ বিকেল ৫টার দিকে বাদীর পিতার লাশ গরুর গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে এনে কবর দেন। এ ঘটনায় প্রথমে তারা মাগুরা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। কিন্তু মাগুরার আদালত গত ৬ এপ্রিল মামলাটি 'আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে' প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বাদী খোকন বিশ্বাস আরও জানান, মামলায় তারা আমজেদ মোল্লা, কেরামত মোল্লা, ওহাব এবং ফসিয়ার মোল্লাকে আসামি করেছেন। শুনেছেন আমজেদ গ্রেফতার হয়েছেন। অন্যরা এখনও গ্রেফতার হয়নি। যশোরের আদালতেও রাজাকার আমজেদ মোল্লার নামে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এই মামলায়ও বিচারক সেটিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
ইত্তেফাক/জামান
