‘হারি বা জিতি, সবাই এক আমরা সব শিল্পী কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবো’

আপডেট : ১৭ মে ২০১৭, ০৯:০৩
 
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান। নানা বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো নির্বাচন ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। সার্বিক প্রসঙ্গ ও নিজের বর্তমান পরিকল্পনা নিয়ে বিনোদন প্রতিদিনের সাথে কথা বললেন তিনি—
 
নতুন কমিটির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের ওপর আদালতের স্থগিতাদেশের মধ্যেই এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হয়। এ বিষয়টি নিয়ে অনেক আলোচনা, সমালোচনা হচ্ছে। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?
 
আদালতের স্থগিতাদেশের কপি আমাদের হাতে এসেছে অনেক দেরিতে। আর সেখানে শপথ গ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল না। নির্বাচন কমিশনের উপস্থিতিতেই আমাদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ক্ষমতা হস্তান্তরের ওপর আদালত স্থগিতাদেশ দেয়, কিন্তু শপথ গ্রহণের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না।
 
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও নির্বাচিত সব সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। বিষয়টি কি একটু নেতিবাচক নয়। আপনি কী মনে করছেন?
 
স্বল্প নোটিশের মাধ্যমে সবাইকে এক করা সম্ভব হয়নি। নবনির্বাচিত সভাপতিসহ আমরা মোট ১৪ জন শপথ নিই। অনেকেই নিজেদের শুটিং থাকায়, দেশের বাইরে থাকায় সেখানে অংশ নিতে পারেননি। কিন্তু খুব শিগগিরই সভাপতি বাকিদের শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করবেন।  
 
নির্বাচন পরবর্তী শপথ গ্রহণ শেষ,  ক্ষমতা হস্তান্তর হওয়ার পরবর্তী পরিকল্পনা কী?
 
আমরা সবার সহযোগিতা চাই। কারণ আমরা একা কিছু করতে গেলে ভুল হতে পারে। যে কারণে আমরা সব সংগঠনের কাছে পরামর্শ চাই আমাদের কী করা উচিত। এরইমধ্যে পরিচালক সমিতি চলচ্চিত্রের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। আদালত সংক্রান্ত ঝামেলা শেষে আমরা ক্ষমতা বুঝে পেলে আমরাও তাদের সঙ্গে যুক্ত হবো। আমরা বিশ্বাস করি এফডিসির সব সংগঠন এক হয়ে কাজ করলে চলচ্চিত্রের সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।
 
প্রথম নির্বাচনে অংশ নিয়েই বিজয়ী হয়েছেন। এরইমধ্যে অভিযোগের তালিকাতেও আপনার নাম এসেছে। এ প্রসঙ্গে কী বলবেন?
 
আমি একটা কথা বিশ্বাস করি মানুষকে ভালোবাসা দিলে ভালোবাসা পাওয়া যায়। বিগত দিনে কোনো পদে না থেকেও শিল্পীরা যখন যেভাবে আমাকে ডেকেছেন পাশে পেয়েছেন। তাই বিপুল ভোটের ব্যবধানে শিল্পীরা আমাকে বিজয়ী করেছেন। সবার প্রতি কৃতজ্ঞ আমি। এটা যেহেতু নির্বাচন সেহেতু এখানে আলোচনা, সমালোচনা, অভিযোগ থাকবেই। কিন্তু দিনশেষে আমরা চলচ্চিত্র পরিবার।
 
এখন এই পদে থেকে কিভাবে কাজ করতে চান?
 
নির্বাচন শেষ হয়েছে। বিজয়ী ও পরাজিতরা সবাই এখন এক। আমরা সব শিল্পী কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এক হয়ে কাজ করবো। এটাই এখন আমাদের মূল ভাবনা। একইসঙ্গে চলচ্চিত্রের সব সংগঠন সমন্বয় করে চলচ্চিত্রের উন্নয়নের জন্য যা যা করা দরকার করা হবে।
 
এবার আপনার ব্যস্ততা প্রসঙ্গে বলুন—
 
এতদিন নির্বাচন নিয়েই মূল ব্যস্ততা ছিল। এখন আস্তে আস্তে কাজ শুরু করছি। কিছুদিন আগে একটি ছবির মহরত অনুষ্ঠান হলো। যে ছবিগুলোর শুটিং বাকি আছে সেগুলো শুরু করবো। এছাড়া ঈদে মালেক আফসারী পরিচালিত ‘অন্তর জ্বালা’ ছবিটির মুক্তি নিয়ে বেশ আশাবাদী। কারণ ছবিটি সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছে। তাছাড়া ছবিটিতে অভিনয়ের পাশাপাশি আমি প্রযোজনাও করেছি। যদিও বাজারের অবস্থা এখন সঙ্কটময়। তবুও আশা করছি ঈদে মুক্তি দিতে পারবো হয়তো। আর আমাদের নির্বাচিত প্যানেলসহ সব শিল্পীরা বসে বেশকিছু আলোচনা সভা করবো চলচ্চিত্রের উন্নয়ন নিয়ে।
 
ইত্তেফাক/আনিসুর