তুরস্কের স্পিকারের সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

আপডেট : ১৭ মে ২০১৭, ২০:৫৮
তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম. আল্লামা সিদ্দীকী আঙ্কারাস্থ তুর্কি গ্র্যান্ড ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার ইসমাইল কেহেরমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বুধবার সাক্ষাতের সময় বাংলাদেশ-তুরস্ক পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ এর চেয়ারম্যান ও পার্লামেন্ট মেম্বার এবুবেকির গিজলিগিদার, তুর্কি গ্র্যান্ড ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির ভাইস প্রেসিডেন্ট আহমেত আইদিন এবং গ্র্যান্ড ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সেক্রেটারি জেনারেল মেহমেত আলি কুম্বুজোগলু উপস্থিত ছিলেন।
 
স্পিকার তুরস্কের স্বাধীনতার যুদ্ধে (১৯১৯-২২) বাংলাদেশের জনগণের সহায়তা ও সমর্থনের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং বাংলাদেশ-তুরস্কের মধ্যকার বিদ্যমান ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্কের প্রতি আলোকপাত করতে গিয়ে উল্লেখ করেন যে, দু’দেশের এ সম্পর্কের ভিত্তি ঐতিহাসিকভাবেই সু-গভীর এবং এ সম্পর্ক বন্ধুত্ব ও বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোয়ান প্রতিশ্রুত অঙ্গীকার অনুযায়ী দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো জোরদার হবে এবং বিদ্যমান বাণিজ্য ১.২ বিলিয়ন (মার্কিন ডলার) থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৫ বিলিয়ন(মার্কিন ডলার)এ উন্নীত হবে। তিনি বিশ্বের সকল মুসলমানের শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের স্বার্থে একতাবদ্ধ হওয়ার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং সে লক্ষ্য পূরণে ওআইসি ও ডি-৮ এর মতো ফোরামগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 
 
রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই উল্লেখ করেন যে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেরও রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্য। সে লক্ষ্য অনুযায়ী বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে আয়ের দেশে ও ২০৪১ সালে উন্নত দেশে পরিণত করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি নিকট অতীতে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে উন্নয়ন, অগ্রগতি  এবং অর্জনেরপ্রবাহমান চিত্র তুলে ধরেন। 
 
তিনি তাঁর বক্তব্যে আরো উল্লেখ করেন যে, আধুনিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা কামাল আতার্তুককে স্বাধীনতা অর্জন এবং তাঁর আত্মত্যাগের জন্য তুরস্কের জনগণ যেমন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে, তেমনি বাংলাদেশের জনগণও বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন ও মানুষের অধিকার আদায়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর অবদানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে থাকে। তিনি বলেন যে, মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণের ত্যাগ, তিতিক্ষা এবং আত্মোৎসর্গ-এর স্মৃতি বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে পবিত্রতম এক অম্লান অধ্যায়। 
 
IMG0
 
এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ফরেন অফিস কনসালটেশন ও জয়েন্ট ইকোনমিক কমিশন এর সভার বিষয়ে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকারকে অবহিত  করেন এবং উক্ত সভাসমূহ দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্ক, ব্যবসা ও বিনিয়োগ প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।নিকট ভবিষ্যতে দু’দেশের মধ্যে উচ্চতর পর্যায়ের সফর বিনিময়ের আশাবাদের  মধ্যে দিয়ে সাক্ষাৎটি সমাপ্ত হয়। রাষ্ট্রদূত তুর্কি পার্লামেন্টের স্পিকারকে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী, বাংলাদেশের ওপর দূতাবাস কর্তৃক তুর্কি ভাষায় প্রকাশিত গ্রন্থ এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প নকশীকাঁথা উপহার দেন।
 
ইত্তেফাক/সাব্বির