চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন চিত্রনায়ক সায়মন সাদেক। নির্বাচনের বিভিন্ন প্রসঙ্গ, পরবর্তী পরিকল্পনা ও বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে—
চলতি সময়ের ব্যস্ততা প্রসঙ্গে বলুন—
‘ঘাস জমিন’ চলচ্চিত্রের ডাবিংয়ের কাজ শেষ করলাম। এছাড়া জান্নাত ছবির গানের শুটিং শেষ করে এলাম কক্সবাজার থেকে। কিছুদিন আগে একটি বাহাদুরি ছবির মহরত অনুষ্ঠান হলো। খুব শিগগিরই ছবিটির শুটিং শুরু করবো।
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ক্ষমতা হস্তান্তরের ওপর আদালত স্থগিতাদেশ দেয়। এরপর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। আপনি এ প্রসঙ্গে কী বলবেন?
নির্বাচন কমিশনার আমাদের জানান, তিনি আদালতের স্থগিতাদেশের কপি শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ঘোষণার আগে হাতে পাননি। তাই নির্বাচন কমিশনারের উপস্থিতিতেই আমাদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তাই এখানে আদালত অবমাননার অভিযোগ আসার কোনো প্রশ্নই আসে না। আদালত অবমাননা করা বড় অন্যায়। আমরা শিল্পী মানুষ, শিল্পই আমাদের কাজ। আইন ভাঙার মতো অপরাধ করার মন মানসিকতা আমাদের নেই।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও আপনিসহ নির্বাচিত অনেক সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। কারণ হিসেবে কী বলবেন?
আমি আমার একটি চলচ্চিত্রের কাজে কক্সবাজার শুটিংয়ে ছিলাম। আগে থেকে জানতাম শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরে হবে। তাই স্বল্প সময়ের নোটিশে উপস্থিত হওয়া সম্ভব হয়নি। আমার মতো অনেকেই নিজেদের শুটিং থাকায়, দেশের বাইরে থাকায় সেখানে অংশ নিতে পারেননি। কিন্তু খুব শিগগিরই আমরা সভাপতির মাধ্যমে আমাদের শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করবো।
নির্বাচন পরবর্তী শপথ গ্রহণ শেষ, ক্ষমতা হস্তান্তর হওয়ার পর আপনার ব্যক্তিগত পরিকল্পনা কী?
আদালত সংক্রান্ত ঝামেলা শেষে আমাদের প্যানেল দায়িত্ব বুঝে পেলে আমরা আমাদের মূল কাজগুলো শুরু করবো। নিজস্ব কিছু পরিকল্পনা তো অবশ্যই রয়েছে। সেগুলো আমাদের সমিতির সাধারণ সভায় তুলে ধরবো। আমি বিশ্বাস করি এফডিসির সব সংগঠন এক হয়ে কাজ করলে চলচ্চিত্রের সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।
প্রথম নির্বাচনে অংশ নিয়েই বিজয়ী হয়েছেন। এরইমধ্যে অভিযোগের তালিকাতেও আপনার নাম এসেছে। এ প্রসঙ্গে কী বলবেন?
অভিযোগের বিষয়টি হয়তো ভুল বোঝাবুঝি থেকে হয়েছে। নির্বাচনটা আমাদের কাছে ছিল মিলনমেলার মতো। যারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন সবার প্রতি কৃতজ্ঞ আমি। সবার ভোটে যেহেতু জিতেছি সেহেতু আমাদের শিল্পী এবং চলচ্চিত্র শিল্পের প্রতি আমার দায়িত্বটা আগের চেয়ে একটু বেড়ে গেল।
নির্বাচিত সদস্যপদ থেকে কিভাবে কাজ করতে চান?
কেউ আপনাকে ভোট দিয়ে দায়িত্ব তুলে দিয়েছে সেটা তো একটু চাপের বিষয়ই। আমরা সবাই এক হয়ে কাজ করবো এটাই আমাদের মূল ভাবনা। চলচ্চিত্রের সব সংগঠনকে সমন্বয় করে চলচ্চিত্রের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে চাই। যারা আমাদের নির্বাচিত করেছেন তাদের আস্থার যেন প্রতিদান দিতে পারি।
ইত্তেফাক/আনিসুর
