রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী আফিয়া জাহিন চৈতীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় হাসপাতালের পরিচালক ডা. এমএ কাশেম জামিন পেয়েছেন।
ছাত্রী মৃত্যুর ঘটনায় বৃহস্পতিবার ৯ জনের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় মামলা করেন ঢাবি ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আমজাদ আলী। ওই দিন রাতেই পুলিশ পরিচালক ডা. এমএ কাশেমকে গ্রেফতার করে। ঢাকা মহানগর হাকিম আব্দুল্লাহ আল মাসুদ গতকাল বিকালে এক হাজার টাকা বন্ডে এবং স্থানীয় দুজন জামিনদারের জিম্মায় ডা. এমএ কাশেমকে জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন।
গতকাল ডা. এমএ কাশেমকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে ধানমন্ডি থানা পুলিশ।
এ দিকে এমএ কাশেম তার আইনজীবী কাজী নজিবুল্লাহ হিরুর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেন। জামিন শুনানিতে কাজী নজিবুল্লাহ হিরু আদালতকে বলেন, গ্রেফতারকৃত ডা. এমএ কাশেমের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এ আসামি নির্দোষ ও নিরীহ। তার বিরুদ্ধে যে ধারায় মামলা হয়েছে, তা জামিনযোগ্য। তাই আসামির জামিন মঞ্জুর করার আবেদন করছি।
এ দিকে চৈতী যার অধীনে চিকিত্সাধীন ছিলেন, সেই অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ বলছেন, পরীক্ষা করেই তারা লিউকোমিয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হন। তাকে যখন আনা হয়েছিল তার অবস্থা খুব খারাপ ছিল। আইসিইউতে নেওয়ার পর চিকিত্সা পুরোপুরি শুরু করার আগেই তার মৃত্যু হয়। চিকিত্সায় কোনো ভুল হয়নি।
ধানমন্ডি থানার ওসি জানান, ঘটনার পর দুজনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছিল। এর মধ্যে মামলা হওয়ায় ডা. এমএ কাশেমকে গ্রেফতার করা হয়। আটক অপরজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ না থাকায় বৃহস্পতিবার রাতেই ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
ডিএমপি ধানমন্ডি জোনের সহকারী কমিশনার আবদুল্লাহিল কাফী জানান, স্বজনরা ময়না তদন্ত করাতে চাননি। এ কারণে বৃহস্পতিবার রাতেই চৈতীর লাশ তার গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাঠানো হয়।
ইত্তেফাক/আনিসুর
