কখনও স্টিং অপারেশন, কখনও গোপন সূত্রের খবর, কখনও রেকর্ড করা টেলি-কথোপকথন সন্দেহটা উস্কে দিয়েছিল আগেই। অভিযোগ উঠেছিল লস্কর-ই-তৈয়্যবার আর্থিক মদতেই টানা অশান্তি চলছে কাশ্মীরে। আর লস্কর প্রধান হাফিজ সাইদের পাঠানো সেই অর্থই উপত্যকায় ছড়িয়ে দিচ্ছেন হুরিয়ত নেতারা। শনিবার সরকারিভাবে সেই অভিযোগেরই তদন্ত শুরু করেছে এনআইএ।
ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ বা জাতীয় তদন্ত সংস্থার একটি দল ইতিমধ্যেই শ্রীনগরে পৌঁছেছে। এনআইএ কারও নাম না বললেও সংবাদ সংস্থার দাবি, প্রাথমিক তদন্তে সৈয়দ আলি শাহ গিলানিসহ চার বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন গোয়েন্দারা।
জিএসটি বৈঠকের জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী অরুণ জেটলি এখন শ্রীনগরে। সাংবাদিকদের তিনিও বলেছেন, ‘‘বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সীমান্তের ওপার থেকে আর্থিক মদদ পাচ্ছেন বলে জানা গেছে।’’ গিলানির পাশাপাশি অন্য যে নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে তাঁরা হলেন নইম খান, গাজি জাভেদ বাবা এবং ফারুক আহমেদ দার ওরফে ‘বিট্টা কারাটে’। এই নইমকেই টিভি চ্যানেলের স্টিং অপারেশনে পাকিস্তানের অর্থ নেওয়ার কথা স্বীকার করতে দেখা গিয়েছিল। এনআইএ-র এক কর্তা জানান, এডিজি ভিএসকে কৌমুদীর নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের যে তদন্তকারী দলটি কাশ্মীরে এসেছে, তাতে রয়েছেন একজন ডিআইজি এবং দু’জন এসপি। এনআইএ-র মুখপাত্র অলক মিত্তল বলেন, ‘‘হুরিয়ত নেতাদের মাধ্যমে সত্যিই পাকিস্তানের অর্থ কাশ্মীরে ঢুকছে কি না, সেটাই তদন্ত করে দেখা হবে।’’
গত বছর হিজবুল কম্যান্ডার বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর থেকেই অশান্ত হয়ে ওঠে কাশ্মির উপত্যকা। পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে হাতে পাথর নিয়ে পথে নামেন কাশ্মীেরের যুবকেরা। তখনই অভিযোগ উঠেছিল, এর নেপথ্যে রয়েছে পাকিস্তানের মদদ। উঠে আসে লস্করের নাম। গোয়েন্দাদের সন্দেহ, মূলত হাওয়ালার মাধ্যমে হুরিয়ত নেতাদের ওই অর্থ পাঠানো হতো। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরে প্রায় ৭০ লাখ রুপি কাশ্মীরে ঢুকেছে। যা মূলত নিরাপত্তা বাহিনীর ওপরে পাথর ছোঁড়া, স্কুল ও সরকারি ভবনে আগুন লাগানোর জন্য যুবকদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া হয়েছে। আনন্দবাজার।
ইত্তেফাক/সাব্বির
