বাবার বিয়ের আগেই কন্যার জন্ম!

আপডেট : ২১ মে ২০১৭, ০৯:১৫
 
রাজধানীর ভাটারা এলাকা থেকে গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৭ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণ করে জোরপূর্বক বাল্যবিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ছাত্রীটির বাবা মামলা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন তার বিয়ের ৫ মাস আগে মেয়ের জন্ম তারিখ দেখিয়ে এই বিয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি অবিলম্বে তার মেয়েকে ফেরত  চেয়েছেন।
 
ছাত্রীটির বাবা গতকাল শনিবার ইত্তেফাককে এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, গত বছর ৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় বখাটে বাপ্পী আমার মেয়েকে অপহরণ করে গাজীপুরে নিয়ে যায়। ঘটনার পরদিন আমি ভাটারা থানায় একটি অপহরণ মামলা করি। পরে জানতে পারি গাজীপুর আদালতে গিয়ে তারা এফিডেভিট করেছে। সেখানে ১৯৯৮ সালের ৩০ জুন মেয়ের জন্ম তারিখ দেখানো হয়েছে। অথচ আমাদের বিয়ে হয়েছে ১৯৯৮ সালের ১ নভেম্বর। সে হিসাবে আমাদের বিয়ের ৫ মাস আগে সন্তানের জন্ম তারিখ দেখানো হয়েছে। অথচ মেয়ের প্রকৃত জন্ম তারিখ ২০০৪ সালের ২৭ নভেম্বর। এ সংক্রান্ত জন্ম নিবন্ধন সনদও রয়েছে। তার প্রকৃত বয়স ১৪ বছর। বিয়ের বয়স ১৮ বছর করতে জন্ম তারিখ এমনভাবে দেখানো হয়েছে যে মেয়ের জন্ম হয়েছে আমাদের বিয়ের আগে। তিনি বলেন, এটা বাল্যবিবাহ। আমি এই বাল্যবিবাহ মেনে নিব না।
 
ছাত্রীটির বাবা আরো বলেন, এ নিয়ে এলাকায় ওয়ার্ড কাউন্সিলের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক বসে। বৈঠকে বাপ্পীর পরিবারের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হলে, পুলিশ আজকালের মধ্যে সন্তানকে উদ্ধার করে দিবেন বলে আশ্বাস দেয়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না।
 
ছাত্রীটির মা অভিযোগ করেন, ‘আমরা এই বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে। পুলিশ কোন ব্যবস্থাই নিচ্ছে না। সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখে আমাদের পরিবার এক ঘরে হয়ে পড়েছে।’ এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ভাটারা থানার ওসি নূরুল মোত্তাকিন বলেন, অপহরণের ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। পরে পুলিশ ঐ ছাত্রীকে উদ্ধার করে পরিবারের জিম্মায় দেয়। এরপর পরিবারটিকে ভয়-ভীতি দেখানো হয়। এ ঘটনায় ঐ পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় দুইটি জিডিও করা হয়। পরে ঐ ছাত্রীটি বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। বাল্য বিবাহের বিষয়টি মাথায় রেখে ঐ ছাত্রীকে উদ্ধার করে আদালতে পাঠানো হবে।
 
পুলিশ আরো জানায়, বাল্য বিবাহের বিষয়টি প্রথমে পুলিশ ধারণা করতে পারেনি। পরে বিষয়টি তদন্ত করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে প্রকৃতপক্ষে সেটি ছিল ‘বাল্য বিবাহ’।
 
ইত্তেফাক/কেকে