সাতক্ষীরা সীমান্তের একটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ফেনসিডিল আটক করাকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরায় বিজিবি ও গোয়েন্দা পুলিশের মধ্যে রীতিমতো ক্ষমতা প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বিজিবি পুলিশের চার সদস্যকে ফেনসিডিলসহ আটক করলেও পরে আলোচনার মাধ্যমে তাদের ছেড়ে দেয়।
গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, তাদের একটি টিম কলারোয়ার কেড়াগাছি সীমান্তের জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি এলাকায় একটি বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছিল। অপরদিকে বিজিবি বলছে, পুলিশ এ এলাকায় তাদের অনুমতি ছাড়া অস্ত্র নিয়ে গৃহতল্লাশি করতে পারে না। তারা ফেনসিডিল ধরার নামে আইনবিরোধী কাজ করছিল।
সোমবার এ ঘটনা ঘটে সাতক্ষীরার তলুইগাছা সীমান্তে। পুলিশ বলছে তলুইগাছা বিজিবি ক্যাম্প থেকে মাত্র ৫০ গজ দুরে জনৈক আজিজুল ইসলামের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ১০ বোতল ফেনসিডিল আটক করা হয়। এতে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে বিজিবি সদস্যরা বাধা দেয়। এলাকায় চোরাচালানি হিসাবে পরিচিত আজিজুলের বিরুদ্ধে ফেনসিডিল পাচার ছাড়াও অবৈধ পন্থায় ভারত ও বাংলাদেশে টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। ফেনসিডিল পাচার ঘটনার সঙ্গে জনৈক আজহারুল, হাফিজা খাতুন ও মাদাইয়ের স্ত্রীও জড়িত বলে জানা গেছে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক আলি আহমেদ হাসমী জানান, আজ সোমবার দুপুরে গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহীনের নেতৃত্বে চারজনের একটি দল গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে তলুইগাছা সীমান্তে যায়। দলের অপর সদস্যরা হলেন এএসআই লিমন, এএসআই কুদ্দুস ও কনস্টেবল মাহবুব।
সেখানে আজিজুল হকের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দশ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল আটক করা হয়। আটক ফেনসিডিল নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার সময় তারা বিজিবির তলুইগাছা বিজিবি কোম্পানির সদস্যদের মুখোমুখি হন।
বিজিবি তাদের চ্যালেঞ্জ করে জানায় আপনারা এখানে অনুমতি না নিয়ে অস্ত্রসহ আসতে পারেন না। জবাবে গোয়েন্দা পুলিশ সদস্যরা বলেন, তারা তাদের সরকারি দায়িত্ব পালন করছেন। এ সময় শুরু হয় তীব্র বাদানুবাদ। দুই পক্ষই যোগাযোগ করেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন সঙ্গে ও বিজিবির ৩৮ ব্যাটালিয়ন কমান্ডার লে. কর্ণেল আরমানের সঙ্গে। এ সময় তাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি এবং ঠেলাঠেলি পর্যন্ত হয়ে যায়।
বিকাল ৪টা থেকে সীমান্তের পথে দুই ভ্রাতৃপ্রতীম বাহিনীর সদস্যদের মধ্যকার উত্তেজনা, হুমকি ও বাদানুবাদ প্রত্যক্ষ করেন এলাকাবাসী। পরে গোয়েন্দা পুলিশ সদস্যদের তলুইগাছা বিজিবি ক্যম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। বিকাল সাড়ে পাঁচটার পর সেখানে শুরু হয় বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের আলোচনা।
বিজিবির তলুইগাছা ক্যাম্প অধিনায়ক নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমান সন্ধ্যা ৭ টায় জানান এখনও বৈঠক চলছে। বৈঠকে যোগ দিয়েছেন বিজিবির উপঅধিনায়ক মেজর আল আমিন ও গোয়েন্দা পুলিশ পরিদর্শক আলি আহমেদ হাসমী।
গোয়েন্দা পুলিশ পরিদর্শক আলি আহমেদ হাসমী বলেন সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালাতে গেলেই বিজিবি প্রায়ই বাধা দেয়। প্রতি সপ্তাহে তারা এভাবে এক দুইবার করে বাধা দেয়। তিনি জানান, আজকের বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। আমাদের সদস্যরা সাতক্ষীরা ফিরে এসেছেন।
অপরদিকে বিকাল সাড়ে ৫ টায় বিজিবির উপঅধিনায়ক মেজর আল আমিন বলেন ‘আমি ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। কিছুক্ষণ পর বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে পারবো’। এরপর থেকে তাকে তার মোবাইল ফোনে বারবার কল করলেও তিনি তা রিসিভ করেন নি। সর্বশেষ রাত পৌনে আটটায় তাকে ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেন নি।
ইত্তেফাক/নূহু
