চট্টগ্রাম আউটার রিং রোড প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দ্বিগুণ

আপডেট : ২২ মে ২০১৭, ২৩:৪৯

নগরীর যানজট কমানো ও সমুদ্র উপকূলে পর্যটন স্পট গড়ে তোলার লক্ষ্যে উপকূলীয় আউটার রিং রোড প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলেছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দূরদর্শিতার অভাবে দীর্ঘসূত্রতায় পড়া এই প্রকল্পের কাজ ২/৩ বছর পিছিয়ে গেছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন হওয়ার লক্ষ্য ধরা হলেও বর্তমানে তা সম্পন্নের টার্গেট রাখা হয়েছে ২০১৯ সালে।

চট্টগ্রাম বন্দর, সিইপিজেড, কেইপিজেডসহ পতেঙ্গা শিল্প এলাকার ঢাকা অভিমুখী পণ্যসমূহ সহজে ও দ্রুত শহর এলাকা থেকে বের হওয়ার জন্য পতেঙ্গা সমুদ্র উপকূল দিয়ে সাগরিকা রোড পর্যন্ত আউটার রিং রোড প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ২০০৬ সালে জাপানের আর্থিক প্রতিষ্ঠান জাইকা এর সম্ভাব্যতা যাচাই করে। পরবর্তীতে জাইকা ও বাংলাদেশ সরকার যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। সর্বশেষ প্রায় ১৮ কিলোমিটার সড়ক ও ফিডার সড়ক নির্মাণের বেশিরভাগের কাজ জাইকার অর্থায়নে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়। অপরদিকে ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসনসহ পর্যটন স্পট, সমুদ্র উপকূলে বাঁধসহ কতিপয় নির্মাণ কাজ বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে করার চুক্তি স্বাক্ষর হয়। প্রকল্পটি গ্রহণের সময় এর ব্যয় সর্বমোট ১২ শত কোটি টাকা ধরা হলেও তা বর্তমানে এসে দাঁড়িয়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকায়।

চুক্তি অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ সিডিএ’র পক্ষ থেকে ২০১০ সালে জমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসনসহ অন্যান্য কাজের জন্য সরকারের নিকট দেড় হাজার কোটি টাকা চাওয়া হয়। ডিপিপি’র অর্থ কমিয়ে ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু সরকার থেকে একসাথে সমুদয় টাকা না পাওয়ায় জমি অধিগ্রহণসহ অন্যান্য সকল কাজ আটকে পড়ে। জাইকা দ্রুত প্রকল্পটির কাজ শুরুর তাগাদা দিতে থাকে। সিডিএ’র পক্ষ থেকে ২০১৪ সালে ২য় বারের মতো ডিপিপি তৈরি করে আবার ১৫শত কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়। এবার উক্ত বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়। এরপর প্রকল্পটির জন্য উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয়া হয়। অস্ট্রেলিয়ার স্মেক নামক প্রতিষ্ঠান উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগ পায়। টেন্ডারের মাধ্যমে স্পেক্ট্রা জেভি ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ পায়। ইতোমধ্যে জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করার কাজ সম্পন্ন হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অধিকাংশ জমি সিডিএ’কে হস্তান্তর করা হয়।

প্রকল্প পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার হাসান বিন শামস্ জানান, ইতোমধ্যে মাটি ভরাটের প্রায় ৭৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। একই সাথে সমুদ্র এলাকায় পাথরের ব্লক বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ব্রিজ ও ১১টি স্লুইস গেট নির্মাণের কাজও চলছে। আগামী বছরের জুন-জুলাইয়ের মধ্যে সমুদ্র উপকূলে সড়কের জন্য মাটি ভরাটের পুরো কাজ সম্পন্ন হবে। এরপর অক্টোবর থেকে সড়ক নির্মাণের মূল কাজ শুরু হবে। জানা যায়, প্রায় ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত সমুদ্র উপকূলে সড়কের নির্মাণ কাজ হবে। বাকি প্রায় ৩ কিলোমিটার পর্যন্ত দুটি ফিডার রোড নির্মিত হবে।

সিডিএ সূত্রে জানা যায়, প্রথমদিকে প্রকল্পে না থাকলেও পরবর্তীতে প্রায় ৫ কিলোমিটার বাঁধে দেয়াল নির্মাণ করা হবে। তা ছাড়া পতেঙ্গা এলাকায় একটি আধুনিক পর্যটন স্পট গড়ে তোলা হবে। প্রকল্পের মূল্য লক্ষ্য হিসেবে নগরীর দক্ষিণাংশের শিল্প-কারখানাসহ বন্দরের মালামাল শহরের মধ্যদিয়ে না গিয়ে আউটার রিং রোড দিয়ে যাতায়াত করলে শহরের যানজট অনেক কমে যাবে। একই সাথে সমুদ্র উপকূলীয় এলাকা ভ্রমণ পিপাসু লোকজনের জন্য নয়নাভিরাম পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে। সমুদ্রের সাইক্লোন জলোচ্ছ্বাসের ক্ষেত্রে উপকূলীয় শিল্প-কারখানাসহ নগরীকে রক্ষায় এই রিং রোড প্রতিরক্ষা বাঁধ হিসেবে কাজ করবে।

ইত্তেফাক/নূহু