জীবন যুদ্ধে জয়ী এক শারীরিক প্রতিবন্ধী নারী জেসমিন আক্তার। তিনি লেখাপড়া করে বিদ্যালয়ের চৌকাঠ পেরিয়ে বর্তমানে শিক্ষকতা পেশায় দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
জেসমিন আক্তারের বাড়ি ইসলামপুর উপজেলা পচাঁবহলা গ্রামে। তার বাবা মনজু মিয়া পেশায় একজন কৃষক। দুই বোন এবং এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি মেঝ সন্তান। জন্মের পাঁচ ছয় মাস পর বাবা মা বুঝতে পারে যে, তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী। জেসমিন দু পায়ের সাহায্যে কখনও দাঁড়াতে পারে না। হামা গুড়ি দিয়ে তাকে চলাফেরা করতে হয়।
জেসমিন পাঁচবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ইসলামপুর এম এ সামাদ পারভেজ মেমোরিয়াল মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ২০১৩ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধী কোটায় সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেন। প্রতিবন্ধী শিশুশিক্ষা ও পরিচর্যা সমিতির মাধ্যমে সমাজ সেবা অফিস থেকে তাকে উপবৃত্তি ও শিক্ষা উপকরণসহ সরকারী সহায়তা প্রদান করে থাকেন।
বিদ্যালয়ে আসা যাওযার সুবিধার্থে জেসমিন ইসলামপুর এমএ সামাদ পারভেজ মেমোরিয়াল মহিলা কলেজের মজিলা আক্তার ছাত্রী নিবাসে থাকতেন। প্রত্যেক দিন তিনি ইজিবাইকে করে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে থাকেন। রাস্তা থেকে অনেকটা দূরে বিদ্যালয় ভবন। তাই তিনি হামাগুড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছান। র্যাম্প না থাকায় তাকে কষ্ট করে হামাগুড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে ঢুকতে হয় এবং একটি থেকে অন্য শ্রেণী কক্ষে যেতে তাকে হামাগুড়ি দিয়ে যেতে হয়। সবচেয়ে বেশি সমস্যার মধ্যে পড়তে হয় বর্ষাকালে।
এ বিষয়ে শিক্ষক জেসমিন আক্তার বলেন, আমি শারীরিক প্রতিবন্ধকতা স্বত্বেও নিরবচ্ছিন্ন-ভাবে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে আসছি। আমার ক্লাসে ছাত্রছাত্রীরা খুবই মনোযোগী। তবে আমার দু’তলায় উঠতে নামতে খুবই কষ্ট হয়। যদি দু’তলায় উঠা-নামা করার জন্য একটি র্যাম্পের ব্যবস্থা করা হতো তা হলে আমার জন্যে অনেকটাই সুবিধা হতো।
প্রধান শিক্ষক মজিবুর রহমান বলেন, জেসমিন আক্তার শারীরিক প্রতিবন্ধকতা স্বত্বেও নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করছেন এবং পাঠদান অব্যাহত রাখেন। তার ক্লাসে ছাত্রছাত্রীরা খুবই মনোযোগী। তার প্রতি ভালবাসা এবং আগ্রহের কমতি নেই শিক্ষার্থীদের।
স্কুলের পরিচালক বেগম রোকেয়া সরদার বলেন, জেসমিন আক্তার শারীরিক প্রতিবন্ধকতা স্বত্বেও বিদ্যালয়ে প্রতিদিন আসা যাওয়া করেন। কিন্তু দু’তলায় উঠতে ও নামতে তাকে অনেক কষ্ট করতে হয়।
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ/আনিসুর
