ভোট কারচুপির অভিযোগ

বরিশালে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর ভোট বর্জন

আপডেট : ২৩ মে ২০১৭, ১৯:১৩
ভোট কারচুপি, এজেন্ট বের করে দেয়ার পাশাপাশি ব্যাপক সন্ত্রাসের অভিযোগে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের চাঁনপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীক ও বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেছেন।
 
আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী মাহে আলম ও বিএনপি প্রার্থী আমির হোসেন দেওয়ান আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। 
 
তারা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বাহার ঢালীর পক্ষে বিভিন্ন ইউনিয়নের সন্ত্রাসীরা এসে পুলিশের সহায়তায় ভোট কেন্দ্রগুলো দখল করে নেয়। সেখানে নৌকা ও ধানের শীষের প্রার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। জোরপূর্বক তারা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর চশমা প্রতীকের পক্ষে সিল মেরেছেন। 
 
আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী মাহে আলমকে নিয়ে নগরীতে এসে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বরিশাল জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মইদুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলন করে চানপুর ইউনিয়নে পুন: নির্বাচনের দাবি করে বলেন- সংসদ সদস্য পংকজ দেবনাথের সন্ত্রাসী বাহিনী ভোট কেন্দ্র দখল করায় নৌকার প্রার্থী ভোট বর্জনে বাধ্য হয়েছেন।
 
মঙ্গলবার বেলা দেড়টায় জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, পংকজ দেবনাথ ইতিপূর্বে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭টি ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী দিয়ে নৌকা প্রতীককে পরাজিত করিয়েছেন। আগামীতে এ উপজেলার আরও ৬টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সেখানেও পংকজ্ এমপি দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী হতে দিবেন না। তিনি দলীয় সংসদ সদস্য হয়ে নৌকা মার্কার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। এমনকি আমি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় পংকজ দেবনাথ আমার বিরোধীতা করেছেন। 
 
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নৌকার প্রার্থী মাহে আলম অভিযোগ করেন, ভোটের আগের রাতেই এমপি পংকজ দেবনাথের স্বেচ্ছা সেবক লীগের নেতা-কর্মীরা মহড়া দিয়ে বিভিন্ন বাড়ি ঘরে হামলা করে নৌকার নেতা-কর্মীদের মারধর করেছে। এতে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ জন কর্মী সমর্থক আহত হয়েছেন বলে মাহে আলম অভিযোগ করেন। 
 
পংকজ দেবনাথ অভিযোগ অস্বীকার করে ইত্তেফাককে জানান, মইদুল ইসলাম আগামী নির্বাচনে মেহেন্দীগঞ্জ থেকে আওয়ামী লীগে মনোনয়ন পাওয়ার আশায় আমার বিরুদ্ধে নানান ষড়যন্ত্র ও অপ-প্রচারে লিপ্ত। এটা তারই অংশ বিশেষ। আর আমি নির্বাচনের আগের দিনই মেহেন্দীগঞ্জ থেকে চলে এসেছি। বরং জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মইদুল তার জাতীয় পার্টির লোকজনকে নিয়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। 
 
এদিকে উজিরপুরের শিকারপুর ইউনিয়নের বিএনপির প্রার্থী সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
 
মঙ্গলবার ভোট শুরুর পর সকাল দশটায় সংবাদ সম্মেলন করে ভোটবর্জনের ঘোষণা দেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী কামরুজ্জামান পিকিং। অপরদিকে জাল ভোট দেয়ার অভিযোগে সকাল সাড়ে দশটায় শিকারপুরের জয়শ্রী ভোট কেন্দ্র থেকে পুলিশ রাসেল হোসেন নামের এক যুবককে আটক করেছে। জাল ভোটের কারণে সে সময় ওই কেন্দ্রে প্রায় আধাঘণ্টা ভোট গ্রহণ বন্ধ ছিল। জেলার হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে সকাল থেকেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। ওই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে চার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
 
ইত্তেফাক/এমআই