পাঁচবিবিতে টর্নেডো: প্রায় সাড়ে ৪’শ পরিবার, ৪’শ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০১৯, ২০:৩৫

৯০ বছর বয়সে কোনো দিন এরকম দেখিনি। চারটি সেমি পাকা ইটের ঘর নিমিষেই উড়ে গেল। কথা গুলো বলছিলেন পাঁচবিবিতে টর্নেডোর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত বাগুয়ান গ্রামের সিরাজুল ইসলাম। পারিবারের চারজনই আহত হয়েছেন। ঝড়ের কবলে পড়া বাগুয়ান গ্রামের ৯২ পরিবারের বাড়ি-ঘর বলতে আর তেমন কিছু  নেই। জায়গা গুলো দেখলে ধারনা করা মুশকিল সেখানে কখনও বাড়িঘর ছিল।
  
মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) দুপুরের পর টর্নেডোর আঘাতে তছনছ হয়ে যায় নওদা, সমসাবাদ, বাগুয়ান, দানেজপুর ও ধরঞ্জী গ্রামের অনেক অংশ। সরকারি হিসাবে টর্নেডোতে বাগুয়ান গ্রামের ৯২, হাজিপুরের ৬, তাজপুরের ৬, নওদার ১৬৬ পরিবার ও দানেজপুরের ১৫০ পরিবারের ঘরবাড়ি তছনছ হয়ে গেছে। শিলা বৃষ্টির কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত  পরিবার গুলোতে রান্না করার মত ব্যবস্থা না থাকায় উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্বাবধানে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সমাজসেবা প্রতিষ্ঠান গুলোকে খিচুরী রান্না করে খাবার সরবরাহ করতে দেখা গেছে। 

ক্ষয় ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণে কাজ করা হচ্ছে বলে জানান ইউএনও রাজিবুল আলম ও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ পরিচালক সুধেন্দ্রনাথ রায়। কৃষি বিভাগ জানায়, টর্নেডো ও শিলা বৃষ্টিতে জয়পুরহাট সদর ও পাঁচবিবি উপজেলা মিলে বোরো ধান ৩৫০ হেক্টর, ভুট্টা ১২ হেক্টর, শাকসবজি ২০ হেক্টর, কলা ১৫ হেক্টর, ফলবাগান ৭ হেক্টর ও স্ট্রবেরি ৩ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাকির হোসেন বুধবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোকে তাৎক্ষনিক সহায়তা হিসাবে গৃহনির্মাণ ও মেরামত বাবদ ৮ লাখ টাকা, দুইশ বান্ডিল ঢেউটিন, পরিবার প্রতি ২০ কেজি চালসহ ডাল, তেল, ম্যাচ, লবণ, চিনির প্যাকেট প্রদান করা হয়েছে। স্থানীয় বে-সরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাকস ফাউন্ডেশন ওই এলাকার সকল প্রকার কিস্তি বন্ধ ঘোষণা করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতায় কাজ করছে বলে জানান, নির্বাহী পরিচালক নূরুল আমীন।

আরো পড়ুন: প্রধান শিক্ষককে জুতা দিয়ে পেটালেন শ্রমিক লীগ নেতা
 
টর্নেডোতে ক্ষতিগ্রস্ত বাগুয়ান গ্রামের সিরাজুল ইসলাম, আইনুল ইসলাম, রাজিয়া সুলতানা, মাহবুবসহ অনেকেই এখন খোলা আকাশের নিচে। 

এদিকে টর্নেডোর সময় উড়ে আসা টিন ও ভেঙ্গে পড়া গাছপালার আঘাতে আহত ২২ জনকে জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জেলা হাসপাতালের সমাজকল্যাণ বিভাগ আহতদের চিকিৎসা সেবার ব্যয় বহন করছে বলে জানা গেছে। 

ইত্তেফাক/অনি