বনানীর দ্য রেইনট্রি হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার পর থানা পুলিশের মামলা নিতে বিলম্ব তদারকিতে অবহেলার ও বাদীর সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে গুলশান বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-কমিশনার (ডিসি), বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও পরিদর্শকের (তদন্ত) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।
বনানীতে হোটেলে আটকে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনার অন্যতম আসামি নাঈম আশরাফ জিজ্ঞাসাবাদে তার বন্ধু সাফাত আহমেদকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। পরিকল্পিতভাবে তারা দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করার কথা স্বীকার করেছে। ঘটনার সময় তাদের কথা না শুনলে তারা দুই শিক্ষার্থীকে মারধর করেছিল। এক পর্যায়ে তারা দুই শিক্ষার্থীকে তাদের কথা শুনতে বাধ্য করে। এরপর দুজন ধর্ষণ করে। নাঈমকে মিন্টু রোডের গোয়েন্দা কার্যালয়ে সাত দিনের রিমাণ্ডে নিয়ে যখন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।
ধর্ষণের মামলার থানা পুলিশের বিষয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, গত সোমবার পুলিশের ‘গাফিলতি’ তদন্ত প্রতিবেদন ডিএমপি কমিশনারের হাতে তুলে দেন তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মিজানুর রহমান। ওই প্রতিবেদনে দুই তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা নিতে বিলম্ব, ধর্ষণের শিকার দুই ছাত্রীর সঙ্গে অসদাচরণ ও তদারকিতে অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে তারা হলেন, গুলশান বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-কমিশনার মানস কুমার পোদ্দার, বনানী থানার ওসি ফরমান আলী ও ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আব্দুল মতিন।
পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ তদন্তে গঠিত তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের শিকার দুই ছাত্রী একজন বনানী থানায় মামলা করতে গেলে থানা পুলিশ গড়িমসি করে এবং ৪৮ ঘণ্টা পর গত ৬ মে মামলাটি নেয় বলে অভিযোগ ওঠায় ওই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। দুই ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়ার পর আসামি পক্ষের কাছ থেকে ওসি ফরমান আলী ২৫ লাখ টাকা নিয়েছেন বলেও বিষয়টিও তদন্ত কমিটি তাদের সুপারিশে উল্লেখ করেছেন। এসব অভিযোগ ডিএমপি কমিশনারের কাছে দেওয়া হয়েছে। তিনি এখন সিদ্ধান্ত নিবেন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, বনানী থানার ওসি ফরমান আলী ও ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আব্দুল মতিন এখন সাময়িক বরখাস্ত ঠেকাতে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে তদবির করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি রাজনৈতিক নেতাদের দিয়ে ডিএমপি’র শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে অনুরোধ করাচ্ছেন যেন এ ঘটনায় তাদের সাময়িক বরখাস্ত না করে বদলি করে দেওয়া হয়।
এদিকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর থেকেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। ঘটনায় পুলিশের দায়িত্বে অবহেলা নিয়ে মানবাধিকার কমিশন একটি তদন্ত কমিটিও করেছেন। ওই কমিটি ঘটনার বিষয়ে জানতে পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার মোশতাক আহমেদ, বনানী থানার ওসি ফরমান আলী ও পরিদর্শক(তদন্ত) আব্দুল মতিন, দ্য রেইনট্রি হোটেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এমপি পত্র আদনান হারুন ও ওই হোটেলের জেনারেল ম্যানেজার ফ্রাংক ফরগেটকে তলব করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত কমিটি। ওই বিষয়ে আরও তথ্য জানাতে বৃহস্পতিবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কার্যালয়ে তাদের সশরীরে উপস্থিত হয়ে ঘটনার ব্যাপারে জবাব দিতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে এই তলব নোটিশ পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনারের তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র।
ইত্তেফাক/এমআই
