ইভিএম চাপিয়ে দেওয়া হবে না :সিইসি

আপডেট : ২৩ মে ২০১৭, ২৩:০৭

সাতটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের খসড়া রোডম্যাপের ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এ রোডম্যাপে নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। রোডম্যাপের খসড়া ঘোষণাকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) খান মো. নূরুল হুদা বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা না পেলে আমরা                  আগামী নির্বাচনে কোনো ভাবেই ইভিএম ব্যবহারে যাব না। তবে এর প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো সবার কাছে উপস্থাপন করা হবে। দলগুলো একমত না হলে ইভিএম চাপিয়ে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে আমরা কোনো রিস্ক নেব না। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে এক প্রেসব্রিফিংয়ে সিইসি এসব কথা বলেন।

সিইসি বলেন, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মধ্য জুলাই বা জুলাইয়ের শেষের দিকে সংলাপ শুরু করতে চাই। তারপর সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম, পর্যবেক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এ বছরের নভেম্বরের মধ্যে সংলাপ সম্পন্ন করা হবে। জাতীয় নির্বাচনের আগে নিবন্ধিত দলগুলোসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একবারই সংলাপ করবো।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি জানান, ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির পূর্বের ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ সংসদের ভোট করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যথাসময়ে তফসিল ঘোষণা করা হবে। ডিসেম্বরের শেষার্ধ থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত ভোটের জন্য উপযুক্ত সময়। আমরা নিজেরা বসে ভোটের তারিখ দেব। আগাম নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগাম নির্বাচনের প্রস্তুতি আছে কমিশনের। আমরা যেকোনো সময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছি।

এর আগে রোডম্যাপ চূড়ান্ত করতে সকাল ১১টা থেকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সিইসি’র সভাপতিত্বে দিনব্যাপী কমিশন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিকাল পৌনে ৫টায় বৈঠক শেষে প্রেসব্রিফিংয়ে আসেন সিইসি। এসময় সিইসি বলেন, বৈঠকে রোডম্যাপের সাতটি বিষয়ের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। প্রেসব্রিফিংয়ে অন্যদের মধ্যে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাহাদত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

রোডম্যাপে যা রয়েছে: প্রস্তাবিত রোডম্যাপে সাতটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এগুলো হলো-১. সকল রাজনৈতিক দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করার লক্ষ্যে আইনি কাঠামো পর্যালোচনা ও সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ। এই কার্যক্রম আগামী জুলাই থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ২. নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সহজীকরণ ও যুগোপযোগী করার কার্যক্রমও জুলাই থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ৩.  নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণ। চলতি বছরের আগস্টে এই কার্যক্রম শুরু হয়ে আগামী ২০১৮ সালের এপ্রিলে শেষ হবে। ৪. ভোটার তালিকা হালনাগাদকরণ। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে। ৫. ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হবে ২০১৮ সালের জুন থেকে ভোটগ্রহণের পূর্বে বা তফসিল ঘোষণার পর। ৬. নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ও নতুন রাজনৈতিক দলসমূহকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে কার্যক্রম গ্রহণ, আগামী অক্টোবর থেকে ২০১৮ সালের মার্চ পর্যন্ত। ৭. সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিং’ এর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে আগামী বছরের জুলাই থেকে সময়সূচি ঘোষণার পূর্বে এমনকি ভোট গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত।

চার কমিশনারের নেতৃত্বে চার কমিটি: আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিতে শক্তিশালী চারটি কমিটি গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই চার কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন চারজন নির্বাচন কমিশনার। গতকাল মঙ্গলবার কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) খান মো. নূরুল হুদা। নিয়োগ, পদোন্নতি, প্রশাসনিক সংস্কার ও পুনর্বিন্যাস এবং দক্ষতা উন্নয়ন কমিটিতে আছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, আইন ও বিধিমালা সংস্কার কমিটিতে নির্বাচন কমিশনার বেগম কবিতা খানম, সীমানা পুননির্ধারণ, জাতীয় এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নির্বাচন প্রস্তুতি এবং উপকারভোগী পর্যায়ে আলোচনা বিষয়ক কমিটিতে নির্বাচন কমিশনার মো.  রফিকুল ইসলাম এবং জাতীয় পরিচয়পত্র, ভোটার তালিকা এবং নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় তথ্য প্রযুক্তি প্রয়োগ কমিটিতে রয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী।

এদিকে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্য হয়, সে লক্ষ্যে পর্যাপ্ত দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগের উপর তাগিদ দেওয়া হয়েছে ইসির রোডম্যাপের খসড়ায়।  পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোকে প্রচারে সমান সুযোগ  দেওয়ার  উপরও গুরুত্বরোপ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ইত্তেফাক/নূহু