যুক্তরাজ্যে পার্লামেন্টের অগ্রিম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৮ জুন। এই উপলক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী প্রচারণা তুঙ্গে। ভোটাররাও ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করছেন। রবিবার একদিনেই প্রায় ৬ লাখ ২২ হাজার মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন বলে কর্মকর্তারা ধারনা করছেন। এদের মধ্যে ২৫ বছরের নিচে আছেন প্রায় আড়াই লাখ। কিন্তু এরই মধ্যে স্থানীয় সময় সোমবার রাতে একটি পপ কনসার্টে আত্মঘাতী হামলায় ২২ জন নিহত হয়েছেন। নিহত এবং আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই তরুন-তরুণী বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ফলে আগামী নির্বাচনে এই হামলা একটা বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন। খবর বিবিসি ও দ্য ব্রিটিশ টেলিগ্রাফ পত্রিকার।
সোমবারের হামলার পর সাধারণ নির্বাচনের সব ধরনের প্রচারণা স্থগিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী মে। বিরোধী দলগুলোও একইভাবে প্রচারণা স্থগিত করেছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দলের নেতার ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। নির্বাচনের প্রায় তিন সপ্তাহ আগে হামলার ঘটনা ঘটলো। ইতোমধ্যে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে। তবে ইশতেহার প্রকাশের পর দলটির জনপ্রিয়তা আগের তুলনায় কমেছে। যদিও এখনো তাদের সমর্থন বেশি আছে। জরিপে দেখা গেছে, বিরোধী দলে থাকা লেবার পার্টির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের দলের জনসমর্থনের ব্যবধান কমে ৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। গত ১৮ এপ্রিল নির্বাচনের ঘোষনার পর থেরেসা মে’র জনপ্রিয়তা ১৭ দশমিক ৮ থেকে ১২ দশমিক ৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। তবে অধিকাংশ জরিপেই কনজারভেটিভ পার্টি অনায়াসে জয় পাচ্ছে বলে আভাস দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই হামলা নির্বাচন সেই জয়ের ব্যবধান কমাবে না কি জয়-পরাজয় নিশ্চিত করবে তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন। এই হামলাকে পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে বিরোধী দলগুলো। তবে অ্যান্ড্রিই লিলিকো নামের এক বিশ্লেষক বলেছেন, হামলার পর নির্বাচনী প্রচারণা স্থগিত করায় হামলাকারীরাই সফলতা পেল।
ইত্তেফাক/নূহু
