দেশের সকল ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় দিবস দেশীয় আবহে পালনের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি হাসান আরিফ এবং মোহাম্মদ বদরুজ্জামানের ডিভিশন বেঞ্চ কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়ে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পরিচালনার ক্ষেত্রে এই রায় দেন।
এছাড়া দেশের সকল স্কুলে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। রায়ে বলা হয়েছে, এক শ্রেণী থেকে আরেক শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার পরে পুনঃ ভর্তি ফি, সেশন ফি, একাডেমিক ফি নামে যে কোনো ধরণের ফি নেয়া হোক না কেন তা বেআইনি এবং এর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
হাইকোর্ট জাতীয় দিবস পালনের বিষয়ে নির্দেশনায় বলেছে, বিভিন্ন জাতীয় দিবসে যথাযোগ্য মর্যাদা সহকারে দেশীয় সংস্কৃতির আবহে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পালন করতে হবে। এছাড়া বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সহ প্রখ্যাত বাংলা সাহিত্যিকদের ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। হাইকোর্টের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ভাষা শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিতে হবে।
পেছনের দরজা দিয়ে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে নিয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পত্রিকার বিজ্ঞপ্তির মধ্য দিয়ে শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে।
অভিভাবকদের করা রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে ২০১৪ সালের ২৩ এপ্রিল এসব ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পুন:ভর্তি ফি বা সেশন চার্জ আদায় থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। শিক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতর এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালকের প্রতি এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
খুরশীদ আলম সরকারের বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন ওই আদেশ দেন। ২০১৩ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর একটি দৈনিকে ‘ফ্রিস্টাইলে চলছে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ বিষয়ে নীতিমালা তৈরির প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবক জাবেদ ফারুক।
রুলে এসব স্কুলে মাসিক বেতন, পুন:ভর্তি ফি বা সেশন চার্জ আদায়ের বিষয়ে নীতিমালা তৈরি এবং তদারক সেল গঠনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়। শিক্ষা সচিব, আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতর এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। পরবর্তীতে এ রুলের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করা হয়।
ইত্তেফাক/সাব্বির
