গোপালগঞ্জে গ্রাম্য মহাজন সিরাজুল হক ছিরু মোল্ল্যা হত্যা মামলায় পাঁচজনের ফাঁসি ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত।এছাড়া ১৭ জনকে যাবজ্জীবন ও তিন জনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে। বৃহস্পতিবার গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. নাজির আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন।
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- জাকারিয়া শাফু, আলীউজ্জামান ওরফে খোকা মাস্টার, শাহাদত হোসেন, হেমায়েত উদ্দিন ও শাজাহান। এদের মধ্যে সাফু ও শাজাহান পলাতক রয়েছেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন- কায়কোবাদ ওরফে মানিক ফকির, মোজাফ্ফর হোসেন, ফায়েক, পারভেজ ওরফে শাহানূর, মোশারেফ হোসেন, লুথু মোল্লা, ইমারত হোসেন পাচু, হাসান, শাহা আলম, লায়েক মোল্লা, সেলিম, ফজু, ফারুক, রহমান, ফরমান, বায়োজিত ও মো. ফারুক মিয়া। এছাড়া ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ প্রাপ্তরা হলেন, হাসান, ফজু ও শাহা আলম।
ওই আদালতের এপিপি শহীদুজ্জামান পিটু জানান, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সাজার আদেশ দেওয়া হয়েছে। ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত তিনজনকে দশ হাজার টাকা করে জরিমানা আনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত ১৭ জনের মধ্যে তিনজন পলাতক। ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত তিনজনের মধ্যে দুইজনই পলাতক রয়েছে বলে ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী কাজী নাজমুল ইসলাম জানান।
তিনি আরো জানান ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। বেঞ্চ সহকারী কাজী নাজমুল ইসলাম বলেন, ৩৭ আসামির মধ্যে দুইজন আসামি ইতিমধ্যেই মৃত্যুবরণ করেছেন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে থেকে দুইজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন বিচারক।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, কাশিয়ানী উপজেলার আড়ুয়াকান্দি গ্রামের মহাজন সিরাজুল হক ছিরু মোল্লাকে ১৯৯৯ সালের ১৫ অক্টোবর কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওইদিন দুপুরে জুমার নামাজ পড়ে ছিরু মোল্লা মসজিদ থেকে নৌকায় বাড়ি ফিরছিলেন। ফেরার পথে আসামিরা নৌকায় হামলা চালিয়ে তাকে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। লাশসহ নৌকা পানিতে ডুবিয়ে দেয়। পরের দিন ছিরুর স্ত্রী আমেনা বেগম পরের দিন ৩৭ জনের বিরুদ্ধে কাশিয়ানী থানায় একটি হত্যা হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে কাশিয়ানী থানার এসআই ২০০০ সালের ১৭ জানুয়ারি ৩৭ আসামীর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।পরে আদালতে বিচার কাজ শুরু হয়। বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাড. ইসমাইল হোসেন এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেছেন, আমার আদালতে সাক্ষ্য প্রামাণ্য উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি। তাই বিচারক আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় প্রদান করেছেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক খান খোকনের সহকারী অ্যাড.তফছির বিশ্বাস, এ রায়কে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, এ আদালতে আসামীরা ন্যায় বিচার পায়নি। ন্যায় বিচার পেতে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব। আশাকরি সেখানে আসামিরা ন্যায় বিচার পাবেন।
ইত্তেফাক/জামান
