স্বাস্থ্যখাতের অগ্রগতি ভারত-পাকিস্তান থেকে এগিয়ে :-স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট : ২৭ মে ২০১৭, ২৩:৪৮

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেও স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এ খাতের অগ্রগতি কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভারত-পাকিস্তান থেকেও এগিয়ে। সুইজারল্যান্ডের ভেনেভায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিশ্বস্বাস্থ্য সম্মেলনে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। গতকাল শনিবার দুপুরে জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিত্সক সংকট ও অবকাঠামো সমস্যার সমাধান হয়ে গেলে সর্বস্তরের স্বাস্থ্য সেবার মান আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হবে। স্বাস্থ্যখাতের আরো উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বিত্তশালীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী গতকাল দুপুরে আকস্মিকভাবে জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। তিনি বহির্বিভাগের চিকিত্সা কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। ওয়ার্ডে চিকিত্সাধীন রোগীদের পাশে কিছুক্ষণ অবস্থান করে তাদের সঙ্গে কথা বলে সেবা ব্যবস্থার খবর নেন। পরে পরিচালকের রুমে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও চিকিত্সকের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময় সভায় হাসপাতালের সার্বিক বিষয় প্রথমে তুলে ধরেন হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আফজালুর রহমান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার বক্তৃতায় বলেন, হার্টের রিংয়ের মূল্য নিয়ে মানুষের মধ্যে উত্কণ্ঠা ছিল। অধিক মূল্য নেওয়া হতো। এতে মধ্যস্বত্বভোগী শ্রেণির স্বার্থ ছিল। তাই ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে হার্টের মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। আমি চাই সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে নির্ধারিত মূল্যেই হার্টের রিং সরবরাহ করা হোক। পরে মন্ত্রী হাসপাতালের আইসিইউসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন এবং রোগী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যেই হার্টের রিং বিক্রি করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুটি তিন তলা করে বিন্ডিং নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া ১৪ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবনও নির্মাণ করা হবে। এসব বিল্ডিং নির্মিত হলে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা দ্বিগুণ হবে। অন্যান্য সরকারি হাসপাতালের মতো হূদরোগ হাসপাতালেও বিনামূল্যের শয্যায় ভর্তি হওয়া রোগীদের জন্য সব ধরনের রক্ত পরীক্ষা বিনামূল্যে করার নির্দেশ দেন তিনি। রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলো দেশের গরিব ও মধ্যবিত্ত মানুষের একমাত্র আশ্রয়স্থল। সাধারণ মানুষের সেবা নিয়ে কোনো গাফিলতি সরকার মেনে নিবে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আফজালুর রহমানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।

ইত্তেফাক/নূহু