ধর্ষণের শিকার এক তরুণীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফেলে পালিয়েছে এক যুবক। শুক্রবার গভীর রাতে তাকে হাসপাতালের ২৮ নং ওয়ার্ডে ফেলে রেখে যায় ওই যুবক।
শনিবার তাকে উদ্ধার করে রামেক হাসপাতলের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। এ সময় ওই তরুণীর মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায় ওই যু্বক।
শনিবার সকালে তরুণীর মামা ও মামি হাসপাতালে গিয়ে ২৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে তাকে উদ্ধার করে। প্রথমে তাকে বাইরের বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু আইনী ঝামেলার কারণে কোনো বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ভর্তি করেননি। এ অবস্থায় শনিবার বিকেলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের মাধ্যমে তাকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়।
তরুণীর মামা বলেন, তারা হাসপাতালে গিয়ে ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেঝেতে মেয়েটিকে পেয়েছি। অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণে মেয়েটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। চিকিৎসক রক্তের ব্যবস্থা করতে বলেন। রক্ত আনার কথা বলে এক তরুণ মেয়েটির মুঠোফোন ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায়। সারারাত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেঝেতে পড়েছিল মেয়েটি। মেয়েটির বাবা নেই। মা এখন মানসিক প্রতিবন্ধী। মেয়েটিও কিছুটা মানসিক প্রতিবন্ধী। তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রফিকুল ইসলামকে জানান, শনিবার ২টা ৪০ মিনিটে মেয়েটিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তার চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ওসিসি থেকে তাকে আইনগত সহযোগিতা দেয়া হবে।
তিনি বলেন, কে বা কারা ভর্তি ছাড়াই মেয়েটিকে ২৮ নং ওয়ার্ডে ফেলে রেখে গিয়েছিল বলে শুনেছি। পরে তার পরিবারের সদস্যরা এসে তাকে নিয়ে যায়। বিকেলে বেসরকারি একটি ক্লিনিক থেকে হাসপাতালে পাঠালে তাকে ওসিসিতে ভর্তির ব্যবস্থা করা হয়।
মেয়েটির মামী জানান, কয়েকদিন থেকে মেয়েটি ফোন কার সঙ্গে যেন বেশি বেশি কথা বলছিল। সে কিছুটা মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে তাকে বোঝানো যাচ্ছিল না। সে বলছিল ছেলেটি কুয়েতে চাকরি করে। সেখান থেকে এসেছে। শুক্রবার বিকেলে বাড়ির সবার নজর এড়িয়ে সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে। উদ্ধার করার পর সে বলছে, ছেলেটি রাজশাহী নগরের রাজপাড়া থানার লক্ষ্মীপুরের কোনো এক জায়গায় নিয়ে রাতে তাকে ধর্ষণ করে। যাওয়ার সময় সে তার মুঠোফোন ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছে।
রাজপাড়া থানার ওসি আমান উল্লাহ বলেন, এ ব্যাপারে থানায় কিছু জানানো হয়নি। ওসিসি থেকে মামলা দায়ের করা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইত্তেফাক/ইউবি
