এবার মেহেদী হাসানের পর রাজধানীর বনানী থেকে নিখোঁজ ৪ তরুণের মধ্যে সুজন ও বাড়ি ফিরেছে। কে বা কারা তাকে অপহরণ করেছিল এবং এতদিন কোথায় রেখেছিল সে বিষয়ে কিছুই জানাতে পারেননি তিনি। সুজন ঘরামী গত বছরের ১ ডিসেম্বর বনানী থেকে নিখোঁজ ৪ তরুণের একজন। নিখোঁজের ৭ মাস পর গত রবিবার বরিশাল বাবুগঞ্জের বাহেরচর গ্রামের নিজ বাড়িতে ফিরেছেন সুজন ঘরামী।
সুজন জানান, ঘটনার দিন বন্ধু মেহেদী হাসান, পাভেল ও সাফায়াতকে সাথে নিয়ে খেতে যান বনানীর একটি রেস্টুরেন্টে, খাওয়া দাওয়া শেষে রাস্তায় বের হতেই পেছন থেকে একজন তার নাকের সামনে স্প্রে করে তাকে জোরপূর্বক মাইক্রেবাসে তুলে। পরে জ্ঞান ফিরলে সুজন নিজেকে একটি অন্ধকার ঘরে বদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। এভাবে কেটে যায় দীর্ঘ ৬ মাস ২৭ দিন। গত শনিবার পুনঃরায় তার নাকের সামনে স্প্রে করলে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। অবশেষে গত রবিবার রাত সাড়ে ১২টায় সাভারের আমিন বাজার এলাকার একটি চায়ের দোকানের সামনে নিজেকে দেখতে পান।
স্থানীয়রা তার তথ্য জানতে চাইলে তিনি বরিশালের কথা বললে তাকে গাবতলী বাস স্টান্ডে পৌঁছে দেয়। বাস যোগে তিনি বরিশালের বাবুগঞ্জে গ্রামের বাড়ির আসেন। খবর পেয়ে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ সুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাবুগঞ্জ থানয় নিয়ে আসেন।
বাবুগঞ্জ থানার ওসি আব্দুস সালাম জানানা, সুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে, সুজন সম্পূর্ণ সুস্থ স্বাভাবিক রয়েছে। সুজনের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বনানীর একটি বাসায় কাজ করতেন সুজন। পরে বাসার মালিকদের সাথে তার আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়। বাসার মালিকদের আর্থিক সহায়তায় সুজন ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটারের উপর একটি কোর্সে পড়াশুনা করেন। পরে ওই মালিকের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে তথ্য প্রযুক্তি বিভাগে চাকরি দেওয়া হয় সুজনকে।
ইত্তেফাক/এমআই
